সারাদেশে নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী দুই দিনে মোট ২১০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শারীরিক হামলা, হুমকি ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ৫৩ শতাংশই শারীরিক হামলা। বাড়িঘর-অফিস-চেম্বারে হামলা হয়েছে ১৪ শতাংশ, ১৩ শতাংশ ক্ষেত্রে হুমকি দেওয়া হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য সহিংসতা হয়েছে ১০ শতাংশ।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘নির্বাচন ও নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি: প্রতিবেদন ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের (ইডব্লিউএ) প্রধান মো. শরিফুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে নির্বাচন এবং তার পরবর্তী দুই দিনসহ মোট তিন দিনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সারাদেশে সংস্থাটির নিজস্ব মনিটরিং এবং মূলধারার গণমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মূলধারার গণমাধ্যমে সহিংসতার সবটুকু তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে সহিংসতার চিত্র অনেক বেশি। সংস্থাটির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মনিটরিং টিমের পাঠানো তথ্য অনুসারে, এই তিন দিনে ২১০টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শরিফুল আলম বলেন, ভোট আপাত শান্তিপূর্ণ মনে হলেও কাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিছু আমলা, পুলিশ, আনসার সদস্য ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়গুলো নিয়ে গভীর অনুসন্ধান দরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। তবে ভোট গণনায় দীর্ঘসূত্রতা, ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজার প্রমাণ এবং ভোটার সংখ্যার সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের অসঙ্গতি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নির্বাচন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শরিফুল আলম জানান, ভোটের পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইডাব্লিউএর পর্যবেক্ষণ মতে, শুধু ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু বলা যায় না। সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভোটের আগে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের বিষয়গুলো নিয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন সংস্থার প্রধান শরিফুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইডাব্লিউএর জেনারেল সেক্রেটারি খোন্দকার জাকারিয়া আহমদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট হেমায়েত হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রোমান।




