শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যখন তিনি বলতেন, দেশের শত্রুরা সব একজোট হয়েছে, ষড়যন্ত্র করছে- এসব শুনতে খুবই বিরক্ত লাগত। উনি যখন বলতেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা সব একজোট হয়ে গোপন ষড়যন্ত্র করছে- তখন মনে হতো মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তিনি ফয়দা লুটতে চান, তাতে উল্টো পাবলিক বিরক্ত। কিন্তু দেড় বছর পর একদম সাধারণ জনগণ বলছেন শেখ হাসিনা ঠিকই ছিল। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের ক্যামেরার সামনে সাধারণ রিকশা অটোওয়ালারা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছেন, শেখ হাসিনাই ঠিক ছিলেন।
এক পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প করেই আন্তর্জাতিক নেতাদের মাথা খারাপ করে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর জ্বালানির উপর বাংলাদেশ বিগ ব্রাদারদের উপর নির্ভর করবে না। একটা গরীব দেশের সরকার পদ্মা সেতুর মত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ফেলাটাও বিদেশীদের ইগোতে গিয়ে লেগেছিল। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রো রেল একটা গরীব দেশে করে ফেলা দেশের শত্রুদের ভালো লাগেনি।
বিদেশী বড় বড় পুরস্কার পাওয়া দেশের শত্রু, বিগ মিডিয়া হাউস, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দোকানের মার্কেটিং অফিসাররা আর প্রো-পাকিস্তান, বামপন্থী, মার্কিন ডলারখেকো সুশীল সবাই মিলে মরিয়া হয়ে লেগেছে আওয়ামী লীগকে ফেলে দিতে হবে! শুধু ফেলে দেয়া নয় এই দেশে যেন কোনদিন আওয়ামী লীগের জায়গা না হয়। ফলে গণহত্যা, দেশ স্বাধীন হওয়া, শহীদ, জুলাই চেতনা এইসব ন্যারেটিভ খাড়া করা হয়েছিল। নতুন নতুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর উদয় হয়েছিল, তারা গুরুগম্ভীর স্বরে বলছিল, গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবে বিতাড়িত কোন দলের ফিরে আসার কোন নজির নেই।
এইসব বিজ্ঞানীদের কোন ধারণা নেই, যেই দলের পেছনে জনগণ থাকে তাদের ফেরা কেবলই সময়েরই ব্যাপার। আওয়ামী লীগ ফিরছে তার জনসমর্থনের জন্য। আওয়ামী লীগ ফিরছে সেই সব সুইং ভোটারদের কারণে যারা এখন মনে করছে শেখ হাসিনাই ঠিক ছিলেন। আওয়ামী লীগ ফিরছে কারণ এখন সাংবাদিকরা সাহস করে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে ফেলছে, আওয়ামী লীগ আমলে তাদের কথা বলার যে স্বাধীনতা ছিল এখন তা নেই। দেড় বছরে একটা দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ই আওয়ামী লীগ আমলের সঙ্গে নিজের তুলনা করে আওয়ামী লীগের সময়কে সুশাসন হিসেবে দেখিয়ে দিয়েছে।
যে নির্বাচন ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, মানুষ এখন দেখছে সেই নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র। একটা দলকে নিষিদ্ধ করে তাদেরকে নির্বাচন করতে না দেওয়াকেই তারা সংজ্ঞা দিচ্ছে ‘ইনক্লুসিভ নির্বাচন!’ আমরাও এক সময় বলতাম, শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচন করেছে। কিন্তু তখন কেউ নিষিদ্ধ ছিল না। তখনকার প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। এখন দল নিষিদ্ধ করে নির্বাচন করা যাচ্ছে যাতে আওয়ামী লীগ জিতে যেতে না পারে সেই ভয়ে! নির্দলীয় নির্বাচনের দাবী করে শেখ হাসিনাকে যারা বর্জন করেছিল তারা ইউনুসের দলীয় পক্ষপাতিত্ব সরকারের অধিনে নির্বাচনে যাচ্ছে কেন? কারণ নির্বাচনটি আঁতাতের নির্বাচন হচ্ছে। হাজার কোটি টাকা খচর করে একটা নির্বাচন করা হবে যা আগেই ফিক্সিং করা থাকবে। এরকম একটি রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তিতে যারা যোগ দিচ্ছে, যেসব মিডিয়া সেই নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করছে তাদের চরিত্র প্রকাশিত হওয়াটাও জরুরী ছিল।
ভয় ভীতি দেখিয়ে কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কেন্দ্রে নেওয়া যাবে ঠিকই। কিন্তু সম্মলিতভাবে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দ্ব্যর্থহীন ভোটাররা এই নির্বাচন বয়কট করেই আছে। কাজেই তথাকথিত গণভোটের হ্যাঁ ও না নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। আজ হোক কাল হোক এই ইন্টেরিম সরকারের অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণের বিচার হবেই। কাজেই এইসব গণভোটের কোন মূল্যই নেই। যে ভোটের ফলাফল আগেই টেবিলে হয়ে গেছে তার কোন মূল্য নেই।




