পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়- এ মতবাদ অনুসরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
এ মতবাদে অনুসারীরা দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি আরবসহ অন্য দেশ, বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে চাঁদ দেখার খবর সঠিকভাবে জানলেই তাদের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে থাকেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খবর:
চাঁদপুর: সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এবারও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরিফসহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামায়াতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী।
পাশের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান।
দেখা গেছে, মুন্সীরহাট মসজিদে ঈদ জামাতে সকাল থেকে লোকজন নামাজ আদায় করার জন্য আশপাশের গ্রাম থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে মুন্সীরহাট বাজারে বসেছে বিভিন্ন খেলনা ও খাবারের দোকান। শিশু-কিশোরদের আনন্দ করতে এবং খেলনা কেনায় ব্যস্ত দেখা যায়।
ঈদের নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি মো. ইউসুফ বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ ও রোজা পালন করে আসছেন, তারাও সেই পথ অনুসরণ করছেন।
আরেক মুসল্লি মির্জা আব্বাস উদ্দিন বলেন, শিশু সন্তানদের নিয়ে এসেছেন ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে। একদিন আগে রোজা রাখায় তাদের ৩০ রোজা পূর্ণ হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে মুন্সীরহাট বাজারের পূর্ব পাশে টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে সকাল সোয়া ৯টায় আরেকটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এ ঈদের জামাতেও কয়েক শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।
সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং পবিত্র রমজানের রোজা রেখে আসছেন। প্রথমে এসব ঈদের জামাতের লোকজন কম হলেও এখন সারা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ঈদ উদযাপন হচ্ছে।
সাদ্রা দরবার শরিফের মুসল্লি ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই করে আফগানিস্তান, মালির চাঁদ দেখার সংবাদ ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহজনক পাওয়ায় আমরা তা গ্রহণ করিনি। সন্দেহের ওপর রোজা ভেঙে ঈদ করা যায় না। ফলে রমজানের ৩০ পূর্ণ করে আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছি।
আগাম ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হচ্ছে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কিছু অংশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়- এ মতবাদ অনুসরণ করতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোতে চাঁদ দেখার খবর সঠিকভাবে জানলেই তাদের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রথা চালু করেন তিনি। এ ছাড়া তার অনুসারীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই সঙ্গে দুই ঈদ উদযাপন ও রোজা পালন করে আসছেন।
দিনাজপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের অর্ধশতাধিক স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন কাহারোল উপজেলার রসুলপুর দারুল হুদা মাদরাসার শিক্ষক আবু তাহের।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় এবার ৫০টির মতো স্থানে আগাম ঈদের জামাত হয়েছে।
নামাজ পড়তে আসা সুলতান আলী বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ আমরা ঈদের সালাত আদায় করলাম। আমরা পরিবারের সবাই মিলে এসে সুন্দর ও ভালোভাবে সালাত আদায় করতে পেরেছি। আমরা সবাই খুবই আনন্দিত।
হলি কোরআন মাদরাসার শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সারাদেশের নিয়মের বাইরে গিয়ে একদিন আগে ঈদ করছি। সারা বিশ্বে একটাই চাঁদ। সৌদি আরবের ভাইয়েরা চাঁদ দেখেই রোজা রেখেছেন, তারা মুসলিম। তাদের বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। চাঁদ উঠেছে, এমন সংবাদ পৌঁছালে রোজা রাখা ফরজ, তেমনি দুই ঈদও করতে হয়।
নামাজে ইমামতি করা আবু তাহের বলেন, পৃথিবী একটা, সৌদি আরব পৃথিবীর মধ্যে। এজন্য আমরা একই দিনে ঈদ করার চেষ্টা করি। তাই একই দিনে ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে।
জানা গেছে দিনাজপুর শহরের নিউটাউন, ফুলতলা, ইসলামবাগ এলাকা, বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইর, বিরলের ভাড়াডাঙ্গি, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ গ্রাম ও তের মাইল এলাকা, বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়রা বাজার জামে মসজিদ ও জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ী মির্জাপুর জামে মসজিদ, চিরিরবন্দর উপজেলার রাবারড্যাম এলাকা, বিরল উপজেলার বালাদার গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিটি জামাতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় দুই হাজার পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। তারা বলছেন, জেলায় মোট ৪৪টি জামাত হয়, এবার বেশি হয়েছে।
জামালপুর: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন জামালপুরের দুই উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ মাঠে ও বাড়ির উঠানে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেন ওই ২০ গ্রামের প্রায় দুই হাজার মুসলমান।
জেলার ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, সাপধরীর ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলপাড়া নামাজ আদায় করা হয়।
এছাড়া সরিষাবাড়ি উপজেলার বলারদিয়া, বাউসী, সাতপোয়া, পঞ্চপীর, সাঞ্চারপাড়, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড়সহ ২০টি গ্রামের মানুষ নামাজ পড়েন।
পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়- এ মতবাদ অনুসরণ করেন এ মুসল্লিরা। রমজান মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেই তারা রোজা রাখেন, দুই ঈদ করেন।
সরিষাবাড়ি বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদের খতিব আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ২০ বছর ধরে আমাদের এ মসজিদের সামনে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। আগে তিনশ-চারশ মানুষ হতো। এখন বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত ভাগ করে দেওয়ায় কিছুটা কম মুসল্লি দেখছি আমরা। জামালপুরের বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
সাতক্ষীরা: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার অন্তত ২০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী।
নামাজে ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও পাইকগাছাসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মুসল্লি অংশ নেন।
মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গত এক যুগ ধরে সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে তারা ঈদ উদযাপন করেন।
ভোলা: সুরেশ্বর দরবারের পীরের অনুসারীরা আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সুরেশ্বর দরবারের পীরের অনুসারীরা প্রায় শতাধিক বছর ধরে এ ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের চৌকিদার বাড়ি ও মজনু মিয়ার বাড়িতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা সিহাব উদ্দিন। সেখানে শত শত মুসল্লির ঢল নামে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মুসল্লিরা।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করতে পেরে ভীষণ আনন্দিত তারা। এসব পরিবারে মানুষ একইভাবে একদিন আগে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। এবারও তারা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই।
বরিশাল: বরিশালে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন ১০ হাজারের বেশি পরিবার। শুক্রবার (২০ মার্চ) চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহাগিরিয়া শাহসূফী মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা এই ঈদ উদযাপন করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহসূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭০টি মসজিদে প্রায় ১০ হাজার পরিবার আজ ঈদ উদযাপন করছে বলে জানিয়েছেন শাহসূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন মিঠু।
অনুসারীদের দাবি পৃথিবীর কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিলিয়ে রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করেন তারা।
পাথরঘাটা, বরগুনা: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বরগুনার পাথরঘাটায় অর্ধশতাধিক পরিবারে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় পাথরঘাটা উপজেলার হাসপাতাল সড়কের সংগ্রাম জামে মসজিদ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে পাথরঘাটায় আগাম ঈদ পালনের প্রচলন রয়েছে। এর আগে সদর ইউনিয়নের হাতেমপুর গ্রামের চৌধুরী মাসুম কৃষি ইনস্টিটিউট মাঠে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হতো।
এ বছরও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, পাথরঘাটার অন্তত ২০টি স্থানে একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের চর্চার অংশ, যা ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ফরিদপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার অন্তত ১২টি গ্রামে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৮টায় বোয়ালমারী উপজেলার মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সহস্রাইল বাজার এবং সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার রাখালতলী বাজারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব এলাকায় ঈদের আনন্দে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বাড়িতে বাড়িতে প্রস্তুত করা হয়েছে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী খাবার।
স্থানীয়রা জানান, মির্জারখীল দরবার শরীফের মাওলানা শামসুল আরেফিনের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারও তারা আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ, যা বহু বছর ধরে একইভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
মাদারীপুর: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার অন্তত ২৫টি গ্রামে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে এসব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন চরকালিকাপুর ফরাজী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
জানা গেছে, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহ. এর অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এ অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর আগাম ঈদ উদযাপন করেন।
এ বছর চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, বাহেরচর, চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, দৌলতপুর, হোসনাবাদ, রঘুরামপুর, কেরানীরবাট, রমজানপুর, কয়ারিয়া, রামারপুল, সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, খাসেরহাটসহ জেলার ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এ ঈদ উৎসবে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দরবার শরীফের মুরিদ সাগর দেওয়ান বলেন, পূর্বপুরুষদের অনুসৃত প্রথা অনুযায়ী আমরা এই ঈদ উদযাপন করে থাকি। প্রতি বছর রোজা ও দুই ঈদই একইভাবে পালন করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য, যা এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করে আসছেন তারা।
পটুয়াখালী: জেলার অন্তত ২৫টি স্থানে বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে, মধ্যপ্রাচ্যের আরবি তারিখের সঙ্গে মিল রেখে এসব এলাকায় শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে সকালেই ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন খতিব মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম, আব্দুল গনি। নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিষ্টি ও পায়েস বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরপুর দাওয়াতুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৯২৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের কিছু গ্রামবাসী পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর উচিত এক চাঁদ দেখেই নিজ নিজ সময় অনুযায়ী রোজা, ঈদ ও কোরবানিসহ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করা।
এ বছর পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনিপাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালী, ইটবাড়িয়া, নাইয়াপট্টি, বাদুড়তলি, সাফাখালী, ছোটবাইশদিয়া ও কাটাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদ উদযাপিত হয়।




