<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Monjurul Haque, Author at NE NEWS</title>
	<atom:link href="https://nenews.news/author/monjurul-haque/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link></link>
	<description>people&#039;s agenda</description>
	<lastBuildDate>Mon, 06 Apr 2026 19:36:16 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	

<image>
	<url>https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/06/cropped-NE-NEWS-LOGO-scaled-1-32x32.png</url>
	<title>Monjurul Haque, Author at NE NEWS</title>
	<link></link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</title>
		<link>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/</link>
					<comments>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 06 Apr 2026 19:36:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামী লীগ]]></category>
		<category><![CDATA[জাতিসংঘ]]></category>
		<category><![CDATA[নিষিদ্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিএনপি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=11263</guid>

					<description><![CDATA[<p>জাতিসংঘ মনেকরে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর অপরাধ। (বিস্তারিত মতামত পড়ুন আমাদের পোর্টাল লিংকে)</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/">নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">সুবর্ণ সুযোগ হাতে পেয়ে ‘চিরশত্রু’ আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। আওয়ামী লীগ এই ভয়াবহ সংকট কীভাবে মোকাবেলা করবে তার সমাধান দেওয়া ব্যক্তি মনজুরুল হকের এক্তিয়ারে পড়ে না কারণ, সে আওয়ামী লীগের কেউ নয়। একজন Geo-Political Analyst হিসেবে নিবন্ধ লেখক শুধুমাত্র Strategic solutions উল্লেখ করতে পারে। তা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা গ্রহণ করবেন এমনটিও লেখক মনে করে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজকে যে বিএনপি স্থায়ীভাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চলেছে তার আগে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে’ দলটির ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এর নেতাদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার কথা বলে ২০২৫ সালের ১২ই মে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এজন্য তারা অবৈধভাবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’-এর ১৮ ধারায় একটি উপধারা যোগ করে কারণ, ওই ধারায় কোনো দলকে নিষিদ্ধের বিধান ছিল না।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="526" height="526" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq.jpg" alt="" class="wp-image-11265" style="width:782px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq.jpg 526w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq-300x300.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-Ittefaq-150x150.jpg 150w" sizes="(max-width: 526px) 100vw, 526px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">ইউনুসের অবৈধ সরকার আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম―মিটিং-মিছিল-সমাবেশ-সংবাদ সম্মেলন-পোস্টারিং, দেওয়াল লিখন, প্রেস-রিলিজ, ডিজিটাল এবং প্রিন্ট গণমাধ্যমে প্রচার নিষিদ্ধ করে। অফিস ও ব্যাংক হিসাবও জব্দ করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।, যার ফলে তারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অর্থাৎ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নির্বাচনের আগে বিএনপি’র একাধিক শীর্ষ নেতা একাধিকবার বলেছেন-‘তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয়’। এমনকি দলনেতা তারেক রহমান বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন ‘আমরা কোনো দলের নিষিদ্ধ চাই না, এটা একটা বাজে উদাহরণ হবে, এর ধারাবাহিকতায় একসময় আমাদের দলও নিষিদ্ধ হতে পারে’। কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকার এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি নিষিদ্ধাদেশ অমান্য করলে কি কি শাস্তি হতে পারে তার বিধান তৈরি করার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে। সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে দলটির নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার আইনি পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিএনপি নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মত গুরুতর বিষয়ে ভারত, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থাসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থার সতর্কবার্তার কারণে নির্বাচনের আগে এমন কিছু ইতিবাচক বিবৃতি দেয় যাতে করে মনে হয়েছিল বিএনপি ইউনূসের বেআইনী ফ্যাসিবাদী শাসন রদ করে একটি গণতান্ত্রিক বাতাবরণ তৈরি করবে। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামিকে নির্বাচনে জেতানোর উদ্যোগ নিলে ভারত নিজেদের নিরাপত্তার বিপদাশঙ্কা করে জামায়াতকে ঠেকাতে বিএনপিকে মৌন কিংবা প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিল।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="640" height="480" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV.jpg" alt="" class="wp-image-11266" style="width:829px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV.jpg 640w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/04/Ban-BAL-71-TV-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 640px) 100vw, 640px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">এর ফলে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ এবং তাদের ভোট ট্রিক্সে ফেলে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন সেই বিএনপি আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী করতে যাচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৪ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান জারি করতে চলেছে। এতে করে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর একটি গুরুতর অপরাধ এবং এই নিষেধাজ্ঞা বলবত রাখার জন্য সরকারকে কারণ দর্শানোর আল্টিমেটামও দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারত সরকারও বিএনপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অতীত রেকর্ড জেনেও তাদের কাছে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভারতবিরোধী ন্যারেটিভ দূর করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর পরিণতিতে কি হতে পারে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী পরিণতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার এক গভীর সংকট সৃষ্টি হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোটের পর, সরকার ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করছে। এতে এমন ধারা রয়েছে যা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত যেকোনো দলকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমগ্রিকভাবে দল দোষী সাব্যস্ত হলে তার সম্পদ স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তার নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত বাজেয়াপ্ত করা হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীকে সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ করে দিয়েছে। জামায়াত ইতোমধ্যেই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পুরোপুরি আওয়ামী লীগ শূন্যতায় তাদের বিকাশ এতটাই দ্রুত এবং বিনা বাধায় হতে পারে যা উপমহাদেশের জন্য অশনিসংকেত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি প্রধান দলকে বাদ দিলে তার সমর্থক গোষ্ঠী গোপন আন্দোলন বা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• এর ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক পরিণতি হলো শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বাড়বে। আবার ভারত প্রত্যর্পণের কথা আমলে না নিয়ে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধিতা সোচ্চার রাখতে চাইছে। যে কারণে ইউনূসের অধ্যায় শেষে যে সুসম্পর্কের আভাস দেখা যাচ্ছিল তা আবার কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন আওয়ামী লীগ কি করতে পারে? তাদের কৌশলই বা কি হতে পারে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">• শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিলের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• তারা দাবি করেছে যেকোনো নির্বাচন বর্তমান প্রশাসনের পরিবর্তে একটি ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে অনুষ্ঠিত হোক এবং তাদেরকে নির্বাচনে লড়বার সুযোগ দেওয়া হোক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• দেশের ভেতরে তাদের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করায় আওয়ামী লীগ বিশ্বমঞ্চের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আইসিসি’তে মামলাও হয়েছে নিষেধাজ্ঞা ও শেখ হাসিনার মৃত্যুধণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• নিষেধাজ্ঞা, সুষ্ঠু বিচারের অধিকার এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারের ‘ভোটাধিকার হরণ’ সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগগুলোকে দলটি কাজে লাগাতে চাইছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">• ভারত থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল ভাষণ দিয়ে চলেছেন, তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণটি হয়েছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যেখানে তিনি নিজেকেই বৈধ নেতা হিসেবে দাবি করছেন এবং বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ যে আলোচনা হলো সেসব প্রাতিষ্ঠানিক সংকট। এর চেয়ে ভয়াবহ যে সংকটটি ইদানিং দৃশ্যমান হচ্ছে, তা অভ্যন্তরীণ সংকট। ইউনূসের অবৈধ ইন্টেরিম সরকার ১৮ মাস ধরে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের একচ্ছত্র ক্ষমতাপ্রদর্শন, ইন্টেরিম ও তাদের ভাঁড়দের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসন চালিয়েছিল, তাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল ইউনূসের সরকারের চুরি-ডাকাতি, ঘুষ-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অত্যাচার-নিপীড়ন, টাকা পাচার, মবভায়েলেন্স এবং অবৈধ ক্ষমতার বেআইনী আইন জারি করে গণনিপীড়নে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে কারণে খুব অল্প দিনেই আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের সিম্প্যাথি তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনের সঙ্গে তুলনা করে মানুষ আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলের অধিকাংশ ‘অপরাধ’ ক্ষমা করে দিয়েছিল বা ভুলে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু নির্বাচনের মাস দুই আগে ভারতের স্ট্র্যাটিজিক্যাল ভুল এবং আওয়ামী লীগের বিএনপির প্রতি বায়বীয় আস্থা রাখা ও সে আলোকে সমর্থকদের মৌনভাবে জামায়াত ঠেকাতে বিএনপিকে ‘মন্দের ভালো’ নীতি অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তার উপর বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের আয়েশি কার্যকলাপ, দেশের তৃণমূল কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচার-নিপীড়নের কার্যকর প্রতিরোধে না নামা এবং কোনো এক বায়বীয় শক্তির সহায়তায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রত্যাবর্তনের আশা দেশের সাধারণ কর্মীদের চরমভাবে হতাশ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামীলীগে বিএনপি ও জামায়াতের চর ঢুকেছে বাধাহীনভাবে। ওদিকে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম ভাঙিয়ে আওয়ামীলীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস শেষ দশ বছরে ধসে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মাফিয়া বিজনেস কাবাল গ্রুপ আওয়ামীলীগকে ‘দখল’ করেছিল। পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে দায়দায়িত্বহীন প্রশাসনকে দিয়ে রাষ্ট্র চালানো, যত্রতত্র মুজিবের ব্যবহার জাতির পিতার ভাবমূর্তি ও অর্জনকে হালকা করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তেলবাজ রাজনীতিক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া একদল স্তাবক, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাহীন শহুরে এলিটদের দৌরাত্ম্য, হেফাজতের মত উগ্র ধর্মবাদী গণতন্ত্রবিরোধীদের সঙ্গে অতিরিক্ত দহরম-মহরম-এর মাশুল দিচ্ছে আজ প্রায় ৫ কোটি আওয়ামীলীগ সমর্থক। এই হাইব্রীড আওয়ামী লীগারদের (যাদের অনেকেই শেখ পরিবারভূক্ত) ক্ষমতার মোহ আওয়ামী লীগকে পচন ধরিয়েছিল। নিজেদের স্বার্থের জন্য এরা বারবার শেখ হাসিনা শেখ মুজিবকে ‘কমোডিটিজ’ বানিয়ে বিক্রি করেছে। সর্বশেষ এরাই শেখ হাসিনাকে একা মৃত্যুর মুখে ছেড়ে এদের অধিকাংশই পালিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যারা নিজেদেরকে ‘শেখ হাসিনার চেয়েও বড় লীগার’ ভাবতে শুরু করেছিল সেই তারাই গত ১৮ মাসে আওয়ামীলীগকে আবার অর্ধেক ডুবিয়ে দিয়েছে। যে জনসমর্থন ৫ আগষ্টের পর শুরু হয়েছিল তাতে আবার ভাটা পড়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেহেতু দেশে প্রথমে ইউনূসের, এবং এখন বিএনপি’র নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে দেশে অবস্থানরত কর্মীরা রাস্তায় নামতে পারছে না, বনে-বাদাড়ে ঘুরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, সর্বক্ষণ গ্রেফতারের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে পারছে না, সেসময় বিদেশে অবস্থারত নেতাদের ডিজিটাল মাধ্যমে যে দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিৎ ছিল তা পারছেন না বা রিস্ক নিয়ে করতে চাইছেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যে কেউ ডিজিটাল মাধ্যমের টকশো’তে লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বক্তব্য খেয়াল করলে অবাক হবেন! ধরুন এই যে ইউনূসের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞাকে সংসদে বিল হিসাবে তুলে কিছু সংশোধন (শাস্তির বিধান রেখে) করে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কর্মকৌশল কী? প্রশ্ন করলে প্রথমেই তারা শুরু করবেন সেই যুক্তফ্রন্ট আমল থেকে ৬৬ সালের ৬ দফা, অসহযোগ আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নির্মম মৃত্যু, পরবর্তীতে ‘তীব্র আন্দোলন’ করে ব্রাকেটমুক্ত লীগের পুনর্জন্ম, ২১ বছর পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতারোহন বয়ান করবেন। </p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৯৬ থেকে কীভাবে কোন কোন দুর্বিপাক সামলে দল চালাতে হয়েছে সেই বিবরণ দিয়ে, বার বার পরাজিত হয়ে আবার ফিনিক্স পাখির ছাই থেকে উঠে আসার বর্ণনা দেবেন। ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কি কি উন্নয়ন করে দেশকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন সেই স্তুতিবাক্য আউড়ে যাবেন। তারপর দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করবেন-‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এই দল জনগণকে সাথে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবে, আবার ক্ষমতাসীন হয়ে দেশকে পতনের হাত থেকে বাঁচাবেন। আওয়ামী লীগ কখনও পেছন দরজা দিয়ে ক্ষমতা প্রত্যাশী নয়’। উপস্থাপক না থামানো পর্যন্ত এই কেচ্ছা বলতে থাকবেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে বর্তমান ভয়াবহ সংকটের সমাধান কোথায়? দল পার্মানেন্টলি ব্যান হতে যাচ্ছে, এই সময় তাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হওয়া উচিৎ কীভাবে এর মোকাবেলা করবে সেটা। তারা যে কৌশলের কথা বলবেন তা যে প্রতিপালিত হবে এবং সফল হবে তেমন না হোক, অন্তত জনগণকে তো জানাতে হবে-তারা এখনও নিঃশেষ হয়নি! তাদের প্ল্যান A, B,C থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নেবেন সেটা পরিষ্কার করে বলতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেসব না বলে ক্ষমতায় ফিরলে কাকে কাকে কীভাবে শায়েস্তা করা হবে, কোন কোন লালবদরের ক্ষমা নাই, লিস্ট করে রাখা হচ্ছে, কেউ পার পাবে না…. আর কোনো ভুল করা যাবে না, সুসময়ের কোকিলদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে… এসব বলার ন্যায্যতা তখনই হবে, যখন ক্ষমতায় আসতে পারবে। সবার আগে ভাবতে হবে কীভাবে ‘ত্রিদলীয় জোটের’ স্টিমরোলার থেকে দলীয় কর্মীদের বাঁচিয়ে রাখবে এবং কীভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করে মানুষের মন জয় করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আনফরচ্যুনেটলি এইসব অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং বার্নিং ইস্যু নিয়ে তাদের ওয়েল থিংকিং প্ল্যান এবং তার ইমপ্লিমেন্টেশনের ডিক্লারেশন অনুপস্থিত। বরং ইদানিং কে কত হার্ডকোর লীগার, কে সফ্টকোর, কারা লালবদর থেকে ভুল বুঝে ফিরে এসেও ষড়যন্ত্র করছে, কারা বিভেদ সৃষ্টি করে ‘নিশ্চিত ফিরে আসা’ ঠেকিয়ে দিতে চাচ্ছে এসব নিয়ে অন্তর্জালে চলছে চাপান-উতোর। খাঁটি বাংলায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নিষিদ্ধকরণ বাস্তবায়ন করলে বিএনপি কত বড় ভুল করবে, দেশে কি ধরণের নৈরাজ্য নেমে আসবে, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তির কি কি ক্ষতি হবে, সেসব নিয়ে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি ভাবুক। জনগণ প্রত্যাশা করে আপনারা অন্তত আপনাদের পায়ের তলাকার মাটি শক্ত করার উদ্যোগ নিন। রাজনীতি করা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। সেটা কোনও আইন-কানুনে স্তব্ধ করা যায় না। সঙ্গত কারণে প্রশ্ন ওঠে; যে দলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ছিল, কোটি কোটি সমর্থক ছিল, প্রশাসনের আগাপাশতরাজুড়ে ‘পক্ষের লোকজন’ ছিল, তারা কোথায়? ২৪-এর জুলাই-আগস্টে যে ভুল হয়েছে তা নিয়ে ‘শিবের গীত’ গেয়ে লাভ নেই। নিষিদ্ধ করলে আপনাদের কাউন্টার রি-অ্যাকশন কি হবে সেটাই মানুষ জানতে চায়, অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুবই বাস্তবসম্মত কথা―হঠকারী সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ওপর নির্যাতন হবে, গ্রেফতার হবে। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন ছাড়া রাজনীতিতে ফেরার দ্বিতীয় অপশন নেই। বাংলাদেশে কতগুলো জেলখানা? তার ধারণ ক্ষমতা কত? কতজন পুলিশ নামবে গ্রেফতার করতে? নিশ্চয়ই সকল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের ক্ষমতা রাখে না সরকার? তাহলে আর কীভাবে ফেরার আশা করেন? ভারত কিংবা তথাকথিত পশ্চিমা শক্তির চাপে যে বিএনপি সরকার নমনীয় হবে না সেটা প্রমাণিত। তাহলে আর কোন ‘ঐশীশক্তির’ আশায় কর্মীদের বিপদের মুখে রেখে আশার বাণী শোনাচ্ছেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">নেতারা বলছেন ’একাত্তরে পাকিস্তানও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিল, ফলাফল―আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীন করেই ফিরেছে। পঁচাত্তরের সেটব্যাক থেকেও ২১ বছর পর ফিরেছে। ইনশাআল্লাহ আবারও জনগণের ভালোবাসায় সগৌরবে ফিরবে’। তারা যদি মনে করেন ‘এবার ২১ বছর লাগবে না, সবে তো দেড় বছর হলো’। তাহলে তো তাদেরই বিজয় হচ্ছে, যারা গাল চেগিয়ে বলেছিল এবং এখনও বলে―&#8221;আওয়ামী লীগ ৫০ বছরেও ফিরতে পারবে না, ২০ বছর লাগবে ফিরতে, ১০ বছরেও পারবে না, বাংলাদেশের রাজনীতিতে লীগ এখন অপ্রাসঙ্গিক!&#8221;</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/">নিষিদ্ধ হওয়ার মুখে পড়া আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরবে?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/awami-league-rajniti-nishiddho-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</title>
		<link>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/</link>
					<comments>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Feb 2026 19:56:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[আমদানি]]></category>
		<category><![CDATA[কৃষক]]></category>
		<category><![CDATA[গোপন চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ট্যারিফ]]></category>
		<category><![CDATA[ড. মুহাম্মদ ইউনূস]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্র]]></category>
		<category><![CDATA[শুল্ক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10390</guid>

					<description><![CDATA[<p>৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ করে দিলেন ইউনূস সরকার ও তার বাহিনী। চুক্তির সুদূরপ্রসারী কুফলে আগামীতে খাদ্যের পুরোটাই আমদানিনির্ভর...</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/">নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ করে দিলেন ইউনূস সরকার ও তার বাহিনী। দেশের অবহেলিত কৃষকরা কোনো প্রতিদান ছাড়াই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কোটি মানুষের অন্ন জুগিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী কুফলে আগামীতে হয়তো আঠারো কোটি মানুষের খাদ্যের পুরোটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে এবং কৃষকেরা হয়ে যাবেন বেকার, দরিদ্র থেকে ভিখারি।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">দেশের আগাপাশতলা ধ্বংস করে শেষ যেটুকু বেঁচে ছিল তাও শেষ করে দিল পরজীবীরা। অভিনব কায়দায় নির্বাচনের দুই দিন আগে রাত ১০ টায় আমেরিকার সঙ্গে গোলামির সনদে সই করল দেশদ্রোহীরা। আমেরিকার সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে দেশটি থেকে সাড়ে চার হাজার শ্রেণির পণ্য আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক শূন্য করা হলো। চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তা করতে হবে। বাকি ২ হাজার ২১০ শ্রেণির পণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে যে রাজস্ব আদায় হয়, তার ৩৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক থেকে এবং ৬২ শতাংশ আসে বিভিন্ন কর থেকে তাও বন্ধ হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>বলা হচ্ছে চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ শ্রেণির পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। অথচ প্রকৃত সত্য হলো কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালে নির্মিত পণ্যে শূন্য শুল্ক হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও পাল্টা শুল্ক শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে শুধু স্বাভাবিক শুল্ক দিতে হবে, বাংলাদেশের পণ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সেই গড় শুল্ক হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ।</strong></p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img decoding="async" width="770" height="470" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate.jpg" alt="" class="wp-image-10392" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate.jpg 770w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate-300x183.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-and-Bangladesh-Yunus-delegate-768x469.jpg 768w" sizes="(max-width: 770px) 100vw, 770px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই এই সুবিধা কার্যকর করতে হবে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ত, ১ হাজার ৫৩৮ শ্রেণির পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই শুল্ক ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কমাতে হবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ চার বছরে সমান হারে কমিয়ে পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা শূন্য করে ফেলতে হবে। তৃতীয়ত, ৬৭২ শ্রেণির বা ধরনের পণ্যে চুক্তি কার্যকরের প্রথম দিন থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমাতে হবে। বাকি শুল্ক ৯ বছরে ধাপে ধাপে কমিয়ে দশম বছরে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। চতুর্থত, ৪২২ শ্রেণি বা ধরনের পণ্যে বর্তমানে কাস্টমস শুল্ক শূন্য রয়েছে। এটা বহাল রাখতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনো ধরনের কোটা আরোপ করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যেসব অশুল্ক বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য যাতে প্রতিযোগিতা পড়ে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়ার ফলে রাজস্ব আদায় চাপে পড়বে। তার মানে যে শুল্ক-কর নামক রাজস্ব আসে, তাতে ধস নামবে। গার্মেন্ট সেক্টরের পরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে আমদানি শুল্ক থেকে। তা বন্ধ হওয়া মানে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক কমানোর (২০% থেকে ১৯%) সুখবর বলে ধাপ্পাবাজী করলেও এর আড়ালে রয়েছে বিশাল ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানিতে শুল্ক শূন্য করা হয়েছে, যা আসলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে এবং বাংলাদেশি পণ্যে ৩৪% শুল্কের বোঝা বজায় থাকবে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="592" height="382" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo.jpg" alt="" class="wp-image-10393" style="width:827px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo.jpg 592w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/trade-deal-protho-alo-300x194.jpg 300w" sizes="(max-width: 592px) 100vw, 592px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">শুল্ক ছাড়ের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশকে মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে হবে। এর ফলে মার্কিন তুলা আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়াবে। শুল্ক কমানোর শর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উড়োজাহাজ ও অন্যান্য পণ্য কেনার শর্তও মেনে নিতে হয়েছে। চূড়ান্ত বিচারে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য শুল্ক সুবিধা নয়ই বরং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও পণ্যের বাজার একচেটিয়া করার বড় সুযোগ দেয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রকে, যেখানে বাংলাদেশ নামমাত্র সুবিধা পেয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইতোমধ্যে এই রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ART) চুক্তির শর্তাবলী এবং প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে &#8216;শুভঙ্করের ফাঁকি&#8217; বা অসম চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সেগুলো কেমন?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১।</strong> চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) মাত্র ১ শতাংশ কমে ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমেছে। এত বড় একটি চুক্তির বিনিময়ে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক হ্রাস উল্লেখযোগ্য অর্জন নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২।</strong> মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে &#8216;শূন্য শুল্ক&#8217; সুবিধা পাওয়া যাবে কেবল তখনই, যদি সেই পোশাক তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (MMF) ব্যবহার করা হয়। এতে বাংলাদেশের স্থানীয় তুলা উৎপাদনকারী ও অন্যান্য দেশ থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বন্ধ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৩।</strong> শুল্ক সামান্য কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। যার ফলে এই পণ্য অন্য কোনো দেশ থেকে সস্তায় পেলেও কেনা যাবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৪।</strong> বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষি পণ্যের যেমন: গরুর মাংস, পোল্ট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য, এবং রাসায়নিক সারের জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প এবং প্রান্তিক কৃষকরা হুমকির মুখে পড়ল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৫।</strong> বাংলাদেশ এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং FDA সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরাসরি কিনতে বাধ্য থাকবে। এতে বাংলাদেশের BSTI-এর কর্তৃত্ব শেষ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৬।</strong> চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী জনসম্মুখে প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে সই করায় জনগণ জানতেও পারল না কীভাবে তাদের উপকারের কথা বলে চরম সর্বনাশ করা হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৭।</strong> আমেরিকান জেনোমেডিক্যালি মডিফায়েড (GM) খাদ্য ও বীজ আমদানির ফলে বাংলাদেশের কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী সর্বনাশ হবে, যেমনঃ</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ক)</strong> জিএম বীজের পেটেন্ট থাকবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হাতে। একবার এই বীজ চাষ শুরু করলে কৃষকরা আগের মতো নিজেদের বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন না। প্রতি বছর চড়াদামে নতুন বীজ কিনতে তারা আমেরিকান কোম্পানির ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(খ)</strong> আমেরিকান জিএম ফসলের পরাগরেণু বাতাসের মাধ্যমে স্থানীয় দেশি ফসলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, যাকে বলে- Genetic Pollution। এতে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী দেশি জাতের বীজগুলো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একসময় ধান্ধাবাজ ফরহাদ মজহার এই জিএম ফুড ও জিএম সীডের বিরোধীতা করে লম্বা লম্বা আর্টিকেল লিখতেন। ‘নয়াকৃষি’ নামক লোক দেখানো আন্দোলন করতেন। আজকে তারই স্ত্রী যে সরকারের উপদেষ্টা, তার সেই পছন্দের সরকার উমিচাঁদ-রায়দুর্লভ-জগতশেঠের মত কামিম বাজার কুঠিতে বসে আমেরিকার কাছে বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষকের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(গ)</strong> আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের মতে জিএম খাদ্যে এমন কিছু প্রোটিন বা জিনগত পরিবর্তন থাকে যা মানুষের শরীরে অ্যালার্জি, লিভার বা কিডনির ক্ষতি এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ঘ)</strong> &#8216;বিটি&#8217; প্রযুক্তির ফসল চাষের ফলে নির্দিষ্ট কিছু পোকা ওই বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ফলে পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>(ঙ)</strong> বাংলাদেশ বর্তমানে অনেক ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে বাজার উন্মুক্ত করে দিলে এবং বিদেশি বীজের আধিপত্য তৈরি হলে দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা অন্য দেশের বাণিজ্যিক নীতির ওপর জিম্মি হয়ে পড়বে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="662" height="824" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post.jpg" alt="" class="wp-image-10394" style="width:840px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post.jpg 662w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-Trade-Department-Post-241x300.jpg 241w" sizes="(max-width: 662px) 100vw, 662px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">এইসব মারাত্মক জরুরি বিষয় বিবেচনা, দেশের কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, দেশের কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের সুরক্ষার জন্য ভারত তাদের বাজারে আমেরিকার জিএম পণ্য জিএম সীড ঢুকতে দেয়নি। ৫০% ট্যারিফের চাপ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়েও ভারতকে রাজি করাতে পারেনি। আর আমাদের পরগাছা প্রবাসী দেশদ্রোহীরা হাসতে হাসতে দেশের কৃষি ও কৃষকের সমাধি রচনা করে দিল ব্যক্তিগত লাভের আশায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>কি মনে হয়? বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে এই চুক্তি বাতিল করে দেবে? পারবে? আসুন দেখা যাক শর্ত কি বলে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি পর্যালোচনার আইনি সুযোগ থাকলেও এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট বাতিলের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>প্রথমতঃ </strong>সাধারণত প্রতিটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতেই ‘টার্মিনেশন ক্লজ’ বা বাতিলের নিয়ম থাকে। যদি চুক্তিতে এমন কোনো ধারা থাকে যে নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশে (যেমন ৬ মাস বা ১ বছর) যেকোনো পক্ষ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, তবে পরবর্তী সরকার আইনিভাবেই এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দ্বিতীয়তঃ</strong> আন্তর্জাতিক আইন বা Vienna Convention on the Law of Treaties-এর অধীনে যদি কোনো চুক্তি জবরদস্তি, ভুল তথ্য প্রদান বা দেশের স্বার্থের চরম পরিপন্থী প্রমাণিত হয়, তবে নতুন সরকার তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্ত্র এই চুক্তি বাতিল করলে মার্কিন বিনিয়োগকারী বা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি হয়, তবে তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা করবে। এতে বাংলাদেশকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হবে। এর ফলে বাংলাদেশি পোশাকের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ বা জিএসপি সুবিধা পাওয়ার আশা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>অর্থাৎ ধরে নেয়া যায় আগামী কোনো সরকারই এই চুক্তি বাতিলের কথা মাথায়ও আনবে না। তাতে দেশের যত বড় সর্বনাশ হোক না কেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">শুল্ক সামান্য কমানোর বিনিময়ে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি (LNG) এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য প্রায় ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকার ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার সম্মতি, মার্কিন কৃষি ও শিল্প পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত করা, স্থানীয় খামারিদের ঝুঁকিতে ফেলা, বাংলাদেশকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে মার্কিন বলয়ের দিকে ঠেলে দেয়া, ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার সাথে জ্বালানি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ বন্ধ করা হলো এই এক ননডিসক্লোজার রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এটা দেশের কফিনে ইউনূস গংয়ের সবচেয়ে বড় পেরেক। সামগ্রিকভাবে চুক্তিটি নিয়ে খুব সংক্ষেপে যে বিপদের কথা বলা হয়েছে, প্রকৃত বিপদ এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সেসব বিস্তারিত জানলে যে কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের রাতের ঘুম উড়ে যেতে বাধ্য।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">কেউ জানে না এটাই শেষ পেরেক কীনা? হয়ত সামনের দিনে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর দাসত্বের কোনো চুক্তিও করে বসবে ইউনূসের সরকার। নির্বাচিত হতে যাওয়া বিএনপি কিংবা জামাত এবং অন্যান্য রাজনীতিবিদ নামক দেশ বিক্রির ভাগীদাররা নীরব দর্শকের মত বসে বসে দেখবে। আমাদের কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক উদয়ান্ত পরিশ্রম করে দিন শেষে ভূখা পেটে ভাগ্যকে দায়ী করে উপর দিকে কারো কাছে বিচার দেবে। তাদের সেই সর্বশান্ত হওয়া গগনবিদারী চিৎকারের মধ্যেই সমাজের এইসব পরগাছা দেশদ্রোহীরা কোটি কোটি ডলার পাচার করে দুনিয়াতেই নিজেদের বেহেশত বানিয়ে নেবে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/">নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস সরকারের গোপন চুক্তি, বাণিজ্যের নামে দাসত্বের চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/usa-trade-deal-tax-yunus-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</title>
		<link>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/</link>
					<comments>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Feb 2026 16:31:08 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[DP World]]></category>
		<category><![CDATA[চুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[ডঃ ইউনুস]]></category>
		<category><![CDATA[দেশবিরোধী]]></category>
		<category><![CDATA[নিউমুরিং টার্মিনাল]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[বন্দর]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=10279</guid>

					<description><![CDATA[<p>টেন্ডার ছাড়াই টর্মিনাল লিজ দেওয়া হচ্ছে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে, যার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/">অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>একটা অবৈধ জনবিচ্ছিন্ন নিন্দিত সরকার এত ক্ষমতা পায় কোথায়? জেনারেল ওয়াকারের নেতৃত্বে সেনাদের একাংশ এই সরকারের ‘পাহারাদার’। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট এক ভাষণে ‘দেশের জনগণের দায়িত্ব আমি নিলাম, আমার উপর ভরসা রাখুন’ বলে তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করে ইউনূসের ইন্টেরিমকে আগলে রেখেছেন এক ধরণের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ডেমো দেখিয়ে। ইন্টেরিমের দ্বিতীয় শক্তি-স্টাবলিশমেন্ট। স্টাবলিশমেন্টই মূলত রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রই কার্যত স্টাবলিশমেন্ট। আধুনিক যুগে ‘কাবাল’ পরিচালিত স্টাবলিশমেন্টের ক্ষমতা সাংসদ-মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী এমনকি প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি। এই স্টাবলিশমেন্টে দেশের সকল শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সমাজের ক্ষমতাবান ধনিকশ্রেণীর প্রতিনিধি আছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই স্টাবলিশমেন্টের একাংশ হঠাৎ করে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। তারা বুঝতে পারছেন গত দেড় বছর ধরে তারা যতো অপরাধ করেছেন তার জবাবদিহির সময় এসেছে গেছে। অন্যায়-অপরাধের কলসি পূর্ণ হলে হয় ভেঙে পড়ে নইলে উপচে পড়ে। দেশের প্রধার দলটিকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে নির্বাচনের বাইরে রেখে আগামী চারদিন পর যে ‘পাতানো’ নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, এবং তার ফলে যে জনঅসন্তোষ শুরু হবে, যে এনার্কি শুরু হবে তা সামলাতে পারবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ কারণে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ একের পর এক ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট জমা নিয়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছাড়তে চাইছেন। বিস্ময়করভাবে এই তালিকায় নয় জন উপদেষ্টা, একাধিক রাজনৈতিক নেতা, সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের সমর্থকসহ আইজিপিও আছেন!</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এই যে তারা আগাম বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন তার পেছনের কারণ কি?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১) </strong>গত বছর নভেম্বর মাসে পোর্টের লালদিয়া টার্মিনাল লিজ দেওয়া হয় ডেনমার্কের ‘এপিএম টার্মিনালস’, পানগাঁও দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডের ম্যাডলক এসএ’কে। এর পর নিউমুরিং টার্মিনাল লিজ দেওয়া হচ্ছে দুবাই ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। এর জন্য কোনো টেন্ডার, যাচাই-বাছাই-মতামত কিচ্ছু করা হয়নি। এ যেন পৈত্রিক সম্পত্তি, যখন খুশি যার-তার কাছে লিজ বা বিক্রি করা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মালিক সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আফ্রিকার জিবুতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনার বিরোধ রয়েছে। সেখানে যে শর্তে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা সেটি ভঙ্গ করে। জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার শঙ্কা থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সুযোগ দেননি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। রাজনৈতিক চাপে বাধ্য হয়ে তখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে।</strong></p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="aligncenter size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="448" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-1024x448.webp" alt="বিরোধিতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্ব বিদেশিদের দেয়ার কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।" class="wp-image-4734" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-1024x448.webp 1024w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-300x131.webp 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port-768x336.webp 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/08/CTG-port.webp 1200w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption"><em>চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর। ছবি : ডয়চে ভেলে</em></figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করেছে হাইকোর্ট। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। এই ধর্মঘট গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৫ শ্রমিক নেতার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে দুদককে চিঠি দেওয়া হয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচলের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। চট্টগ্রাম বন্দরে আবার অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে বাজারে পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে। বিজিএমইএ নেতারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো জাহাজীকরণ না হলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন। ব্যবসায়ীদের বিশাল অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ গুনতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) জানায়, বর্তমানে বন্দরে আটকা থাকা রপ্তানি পণ্যের মূল্য প্রায় ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। তা সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে ইউরোপীয় ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>২</strong>) নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ১১ সদস্য জাপার একাংশেরসঙ্গে বৈঠক করেছন। সেখানে জাপা নির্বাচনে ‘নিরপেক্ষতা নেই’ বলে নালিশ দিয়েছেন। এই দলটি পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের তিন নেতা- সজীব ওয়াজেদ জয়, ড. সেলিম মাহমুদ ও জাহানারা আরজুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জয় জানিয়েছেন-সন্ত্রাসদমন আইনে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন কমনওয়েলথ টিম।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="815" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-815x1024.jpg" alt="বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের মন্তব্য" class="wp-image-10281" style="aspect-ratio:0.7959076958053882;width:468px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-815x1024.jpg 815w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-239x300.jpg 239w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-768x965.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election-1223x1536.jpg 1223w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/CPD-Statement-on-Bangladesh-Election.jpg 1630w" sizes="(max-width: 815px) 100vw, 815px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৩)</strong> ৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই সরকারের ‘পক্ষের প্রতিষ্ঠান’ সিপিডি এক সেমিনারে বলেছে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হলে সে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ হবে না। আওয়ামী লীগকে তো গতকাল নিষিদ্ধ করা হয়নি। ২০২৫ সালের ১২ মে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সিপিডি সেসব জানে। এমনকি তার আগে থেকেও জানে। প্রশ্ন হলো এতদিন পর নির্বাচনের ঠিক চারদিন আগে কেন সিপিডি এই গুরুতর প্রশ্ন তুলল? তবে কি সিপিডি ভবিষ্যতে রিভেঞ্জ বিভীষিকা অনুমান করতে পারছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৪)</strong> আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তারা স্পষ্ট করেই বলেছে-দেশের সিংহভাগ ভোটারের ভোটদানের অধিকার বঞ্চিত করা হলে নির্বাচন সর্বজন গৃহিত হবে না বরং প্রশ্নবিদ্ধ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৫)</strong> জামায়াতের আমীর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ‘মিলেমিশে কাজ করা’র আহ্বান রাখেন। বিএনপি জামায়াতের এই প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি কোনোরকম সমঝোতায় যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে করে জাময়াতের চেয়েও বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন সরকারের চার উপদেষ্টা। তারা মনে করছেন ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরণের আইনবহির্ভূত অ্যাকশন নিয়েছিলেন তারা। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তো তাদের বিপদ হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৬)</strong> উপদেষ্টাদের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারের মিত্র বলে পরিচিত এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের হঠাৎ যুদ্ধংদেহী আচরণের হেতু খুঁজে পাচ্ছেন না। ইনকিলাব মঞ্চের দাবীর প্রতি পুলিশি অ্যাকশন এবং দুদিন বন্ধ রেখে ৮ তারিখে আবার তারা যমুনা ঘেরাও করার কর্মসূচি দেওয়ায় ওই উপদেষ্টাগণের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হচ্ছে। এতে করে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>৭)</strong> ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনটি ইস্যু নিয়ে আন্দোলন জোরালো হতে পারে। পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে অগ্নিগর্ভ। (ক) চট্টগ্রাম বন্দরের লিজ নিয়ে আন্দোলন তীব্র হয়ে বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে যেতে পারে। দেশের মোট রফতানির ৯১ শতাংশ হয় এই বন্দর দিয়ে। (খ) সরকারি কর্মকর্তাদের পে-স্কেল বাস্তবায়ন আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। গতকালই পুলিশ তাদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পর তারা আজ আবার যমুনা অভিমুখি মিছিলের ডাক দিয়েছে। এই আন্দোলনে সচিবালয় ও অন্যান্য সেবাদান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যোগ দিতে পারে। তালা ঝুলতে পারে সচিবালয়ে। উপদেষ্টাদের অনেকে মনে করেন এমনটা হলে কোনোভাবেও নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কয়েকদিন আগে এক উপদেষ্টার সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। উপদেষ্টা তাদের যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি সরে এসছেন। নির্বাচনের যখন মাত্র চারদিন বাকি, তখন এই তিনটি বড় ধরনের আন্দোলন, মিটিং-মিছিল-ঘেরাও-অবস্থান কর্মসসূচি সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এইসব অস্থিরতা দমন করা যে সরকারের পক্ষে সম্ভব না সেটা সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন। </p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="819" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-819x1024.jpg" alt="" class="wp-image-10282" style="aspect-ratio:0.7998119564365744;width:464px;height:auto" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-819x1024.jpg 819w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/02/USA-think-tank-about-Bangladesh-Election.jpg 1638w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এতসব অস্থিরতার মধ্যেও আবার সরকার একটার পর একটা দেশবিরোধী চুক্তি করে চলেছে। চীনের সঙ্গে সামরিক চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে ৫১ টি দেশের প্রতিনিধিদের সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে নতুন ১২১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির পরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বিষয়ে নিজেরা জড়িত না হয়ে ভারতকে ‘দেখতে’ বলেছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বিতর্কীত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগ দিয়ে ‘প্রতিপালিত’ ইনকিলাব মঞ্চ, ‘অনুগত’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ‘পক্ষের’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ‘ব্যালান্স করা’ কমনওয়েলথ যার যার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ইউনূসের ওপর থেকে। তার বশংবদ উপদেষ্টা গংয়ের অর্ধেকের বেশির পরিবার দেশ ছেড়েছে। তাদের অনেকেই লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে ব্যক্তিগত পাসপোর্টে পশ্চিমা দেশগুলোর ভিসা লাগিয়ে বিমানে ওঠার অপেক্ষা করছে। পুলিশের আইজিসহ বহু কর্মকর্তা নিজেদের সেইফ একজিটের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। মোটের ওপর ইউনূসের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর লোকজনসহ ব্রেড-বাটার খাওয়া বসন্তের কোকিলরা ক্ষমতা পেয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে এখন ভয় পাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এমতাবস্থায় নিশ্চিতভাবেই ইউনূস ঘরে-বাইরে একা হয়ে পড়েছেন। তার সকল শক্তির উৎসগুলো একে একে নিভে যেতে শুরু করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিন গোঁ-ধরে নির্বাচন করতে পারলেও তার মুক্তি নাই, না পারলেও মুক্তি নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঠিক এমন টালমাটাল অবস্থায় আওয়ামী লীগ যদি তাদের নেতা-কর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দেয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই আগুনে ঘি পড়তে যাচ্ছে। জয়ের ভাষ্যে বা শেখ হাসিনার একাধিক অডিও ঘোষণায় তেমন আলামত স্পষ্ট হচ্ছে। এখন কি করবে জামায়াত-বিএনপি-এনসিপি? পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনের বাস্তবতা শেষ। এখন যেটা হতে পারে-চর্তুমুখি সংঘাত। সেটা এমনই ক্রিটিক্যাল যে পক্ষ-বিপক্ষ অনুসরণ করাও কষ্টকর। একদল প্যারাসাইট দেশটাকে এমন এক অনিশ্চিত অগ্নিগর্ভ করে তুরেছে যেখানে কেউই আর নিরাপদ নয়।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/">অস্থিরতায় সরকার, থেমে নেই দেশবিরোধী চুক্তি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/yunus-sorkar-deshbirodhi-chukti/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং জামায়াতে ইসলামি, সম্পর্ক ও সমীকরণের বিশ্লেষণ</title>
		<link>https://nenews.news/jamaat-islam-usa-shartho/</link>
					<comments>https://nenews.news/jamaat-islam-usa-shartho/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 26 Jan 2026 13:00:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[World]]></category>
		<category><![CDATA[ইউরোপীয় ইউনিয়ন]]></category>
		<category><![CDATA[কূটনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[জামায়াত ইসলামি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[মিয়ানমার]]></category>
		<category><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্র]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=9883</guid>

					<description><![CDATA[<p>যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বরের মতামত জরিপে জামায়াতকে সবচেয়ে ‘পছন্দসই’ দল হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/jamaat-islam-usa-shartho/">যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং জামায়াতে ইসলামি, সম্পর্ক ও সমীকরণের বিশ্লেষণ</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">দ্রুত বদলে যাচ্ছে জিওপলিটিক্যাল স্ট্র্যাটিজি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে-পরে বিএনপি-জামায়াত উভয়েই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল। তখনও দুদলের কেউই নিশ্চিত ছিল না। ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে বিশাল জনসমাবেশ করে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পর পরই বেগম খালেদা মারা গেলে তার জানাজায় আরও বিশাল জনসমাবেশ ঘটানো হয়। দুক্ষেত্রেই সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তারেককে লাল গালিচা সম্বর্ধনাসহ নিরাপত্তা দেয়। বলা যেতে পারে বিএনপি’র শুকনো খালে জলপ্রপাত ঘটে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেটা দেখেই প্রমাদ গোণে জামায়াত। তারা বেশ কয়েকবার অভিযোগ করে, একটি দলকে জয়ী করার জন্য সরকারের লোকজন কাজ করছে। এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও নালিশ জানায় জামায়াত। সেসময় মনে করা হচ্ছিল বিএনপির জয় নিশ্চিত। কেবল মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এর পর পরই রুলেতের আইভরি বলটি দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঁচ সদস্যের একটি দল এমাসের গোড়ার দিকে ঢাকায় এসে তৎপরতা শুরু করে। নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দায়িত্ব নিয়েই ‘সকল’ দলের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলেন। এরই মধ্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক অতিরিক্ত তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক সেরেই উড়ে যান দিল্লি। সেখানে ভারতীয় কয়েকজন সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কেউ রাজি হয়নি। এরপর তিনি একজন প্রাক্তন সেক্রেটারি, দুজন প্রাক্তন কর্মকর্তা ও একজন সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠক করে বুঝতে চেষ্টা করেন; বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি কি? সারাহ কুক দিল্লিতে বলেন-‘বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো’। তার এই মেকিং স্টেটমেন্ট শুনে স্তম্ভিত হন ভারতীয় কূটনীতিকরা।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি দিল্লিতে থাকা অবস্থায় অর্থাৎ ২১ তারখে হঠাৎ করে একই দিনে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘আল-জাজিরা’ ও ‘রয়টার্স’-এর মত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মিডিয়ায় তিনটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। যার বিষয়বস্তু প্রায় একইরকম- জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র।</p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="819" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post-819x1024.jpg" alt="" class="wp-image-9888" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post-819x1024.jpg 819w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Jamaat-USA-Washington-Post.jpg 1637w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">ওয়াশিংটন পোস্ট লেখে― “জামায়াতে ইসলামী আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করতে পারে—এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক কূটনীতিক কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন। তাদের ওই কথোপকথনের একটি অডিও পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করতে যাচ্ছে।“</p>



<p class="wp-block-paragraph">গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘আরো বেশি ইসলামমুখী’ হয়ে উঠেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো ফল করবে।’ ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা (জামায়াত) আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, ‘জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিজেদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে তারা আগ্রহী কিনা।’ ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তারা কি আপনাদের শো-তে আসবে?’</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে তারা শরিয়াহ আইন চালু করবে এমন আশঙ্কাও নাকচ করে ওই কূটনীতিক বলেন, &#8221;আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে। দলটির নেতৃত্ব যদি উদ্বেগজনক কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারে।“</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মার্কিন কূটনীতিকের এমন ‘ওভারল্যাপ’ দেখে ওয়াশিংটন পোস্ট ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মোনিকা শাই-এর সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের ওই বৈঠকটি ছিল একটি নিয়মিত, অব দ্য রেকর্ড আলোচনা, যেখানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন। ওই আলোচনায় একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেয় না।’ অর্থাৎ তারা বলতে চাইছেন, শুধু জামায়াত নয়, তারা সকল দলকে সমানভাবে দেখেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এ কূটনৈতিক তৎপরতা ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিংকট্যাংক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে ঠেকেছে। ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক সংঘাত, রাশিয়ার তেল কেনা, অসমাপ্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ—এসব ইস্যুতে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বহু বছর ধরেই।’ তার মতে, ভারত এ দলটিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।“</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="aligncenter size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="768" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/10/USA-Independent-Day-with-Jamaat-E-Islami-1024x768.jpg" alt="বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন (Tracey Ann Jacobson) ২৪৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং তারা সবাই একসাথে দাড়িয়ে ছবি তুলেছেন এখানে।" class="wp-image-6815" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/10/USA-Independent-Day-with-Jamaat-E-Islami-1024x768.jpg 1024w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/10/USA-Independent-Day-with-Jamaat-E-Islami-300x225.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/10/USA-Independent-Day-with-Jamaat-E-Islami-768x576.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/10/USA-Independent-Day-with-Jamaat-E-Islami.jpg 1280w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption"><em>বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেয় ২ জুলাই ২০২৫ তারিকে (সংগৃহীত)</em></figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><strong>স্মরণ রাখা দরকার ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে। ঢাকায়ও একাধিক বৈঠক হয়েছে। গত শুক্রবার দলটির শীর্ষ নেতা ভার্চুয়ালি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও বৈঠক করেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ওয়াশিংটনে হওয়া বৈঠকগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে তারা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকগুলোকে ‘নিয়মিত কূটনৈতিক কাজ’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করে বোঝাতে চেয়েছেন-এসব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হাতে আসা অডিওর বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ঢাকায় দূতাবাসের ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি মিশনের কর্মীরা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, কারণ আমরা চাই প্রয়োজনে ফোন তুলে বলতে পারি—আপনি যে কথাটা বললেন, সেটার পরিণতি এভাবে ঘটবে।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় এসে ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য নীতি বাস্তবায়ন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশাল পোশাক শিল্পে মদদ দেবে না।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি, রফতানির ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যদি নারীদের কাজ থেকে সরিয়ে দেয় এবং শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেয়, তাহলে আর কোনো অর্ডার আসবে না।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘জামায়াত এটা করবে না। এত বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত, বুদ্ধিমান মানুষ আছে যে তারা এমনটা করবে না। আমরা তাদের খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেব—কী ঘটতে পারে।’</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ভাবনার বিষয়- মার্কিন কূটনীতিক কত পরম নির্ভরতার সঙ্গে বলছেন-‘তাদের মধ্যে এত বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত, বুদ্ধিমান মানুষ আছে যে তারা শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেবে না!’ ২০২১ সালে আফগানিস্তান ছাড়ার সময়ও মার্কিনীরা বলেছিল-‘তালিবানরা কথা দিয়েছে, তারা এবার আর নারীদের অন্তঃপুরে রাখবে না এবং জোর করে শরিয়াহ শাসন চাপিয়ে দেবে না।‘</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মার্কিনীরা জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে এতটাই বেপরোয়া যে এতে নয়াদিল্লির উদ্বেগকেও পাত্তা দিতে রাজি নয়।  তাদের মতে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যদি ভালো অবস্থায় থাকত, তাহলে নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে ভারতের উদ্বেগকে বেশি গুরুত্ব দিত। কিন্তু যেহেতু সম্পর্ক এখন চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে, তাই আমরা মনে করি না যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভারতীয় উদ্বেগের প্রতি অতটা মনোযোগী থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আল-জাজিরা এ বিষয়ে একেবারে কাছা খুলেই নেমেছে। তাদের শুরুটা এমন- ‘জামায়াতে ইসলামী দলের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের জন্য প্রচারণা চালাতে গিয়ে যাদের সাথেই দেখা হয়েছে তারা জামায়াতের পক্ষে ‘একতাবদ্ধ ভোট’ দিচ্ছেন, কারণ বিশ্বের অষ্টম-বৃহৎ জনবহুল দেশটিতে ইসলামপন্থী দলটিকে সাধারণত বলা হয়, গ্রহের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল!’</p>



<p class="wp-block-paragraph">আল-জাজিরার রিপোর্টার মাসুম বিল্লাহ। জামায়াতকে হাইলাইটেড করতে গিয়ে রিপোর্টটিকে আবেগ জ্যাবজেবে করে ফেলেছেন। এক জায়গায় লিখেছেন-“যদি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হয়, তাহলে হাসিনার ১৫ বছরের সরকারের সময় যে দলটি নির্মম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল, তার জন্য এটি একটি নাটকীয় পরিবর্তন হবে। হাসিনার অধীনে, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, এর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল বা জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং এর হাজার হাজার সদস্যকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল বা হেফাজতে হত্যা করা হয়েছিল।“</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর আরও এক পোচ কালি দিয়ে একাত্তরের ইতিহাস বিকৃত করে বলেছেন-“১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে সন্দেহভাজনদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল &#8211; একটি বিতর্কিত আদালত যা হাসিনা ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।“</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তুলনায় রয়টার্স লিখেছে, “স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিন্দিত এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দলটি আগামী মাসে সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন করে গড়ে উঠছে এবং নতুন সমর্থন আকর্ষণ করছে, যা মধ্যপন্থী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অস্থির করে তুলছে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার পরপরই জামায়াতে ইসলামী তাদের সংস্কার শুরু করে। হাসিনার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর, জামায়াত তার দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি, কল্যাণমূলক প্রচারণা এবং বিশ্লেষকরা দলের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স প্রদানের জন্য জনমতের উপর নির্ভর করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বরের একটি মতামত জরিপে জামায়াতকে সবচেয়ে ‘পছন্দসই’ দল হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হাসিনার বিদায়ের পর থেকে, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হিন্দু এবং সুফি মাজারগুলিতে আক্রমণ করা হয়েছে, অন্যদিকে বাউল ও লোকসঙ্গীতশিল্পীদের গান গাওয়া থেকে শুরু করে মহিলাদের ফুটবল ম্যাচ পর্যন্ত অ-ইসলামিক বলে আক্রমণ করেছে এবং বাতিল করেছে।“</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এখন প্রশ্ন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন একটি ধর্মভিত্তিক উগ্র সাম্প্রদায়িক দল যাদের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র শিবির’কে কিছুদিন আগেও বিশ্বের তিনটি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রেখেছিল-তারা কেন এখন জামায়াত ও শিবিরকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে শুধু নয়, নির্বাচনে যেন জামায়াত জয়ী হতে পারে তার সকল ‘ব্যবস্থা’ নিচ্ছে এবং অন্যদেরও সমর্থন করার জন্য চাপ দিচ্ছে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>একই প্রশ্নের দ্বিতীয় ভাগ, কেন মার্কিনীদের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকার, ইইউ একেবারে খোলামেলা জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চাইছে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এতে করে ভারত এই বিষয়কে যে স্বাভাবিকভাবে নেবে না সেটা জেনেও কেন এরা অতিরিক্ত তৎপর? বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যাদের ক্ষমতায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘লেবার পার্টি’, একাত্তরে যাদের পূর্ণ সমর্থন ছিল স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের প্রতি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর উত্তর অনেক বিস্তৃত। সংক্ষেপে বলা যায়-ডেমোক্র্যাসি, হিউম্যানিটি, মুক্ত-স্বাধীন চিন্তার বিকাশ কথাগুলো পশ্চিমাদের স্রেফ বুলিবাগিশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন বাইডেন প্রশাসন থেকে একচুল সরেনি, তেমিন স্যার কিয়ার স্টারমার প্রশাসনও টোরি দলের নীতি-আদর্শ থেকে একচুল সরেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির প্রধান ফার্টাইল গ্রাউন্ড অবশ্যই মিয়ানমার। মিয়ানমারের বিপুল পরিমান রেয়ার আর্থ মিনারেলের প্রতি লোভ তাদেরকে ব্যাকুল করে তুলেছে। মিয়ানমারকে চীনের কব্জা থেকে সরাতে বাংলাদেশে তাদের এমন একটা সরকার দরকার যারা ভারতবিরোধী এবং মিয়ানমারবিরোধী। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ‘আরসা’কে যারা সবরকম সহায়তা দেবে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">পাশাপাশি বাংলাদেশের উপর পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধি করে ‘ইস্টার্ন ফ্রন্ট’ গড়ে তোলা হবে যারা ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ দেবে। ফলে ভারত এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না, বরং নিজেদের ‘সেভেন সিস্টার্স’ আর ‘চিকেন নেকস’-এর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাতীব্যস্ত থাকতে বাধ্য হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একই ধরণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাকি তিনটি দেশ-চীন-পাকিস্তান-তুরস্কও ভারতকে এই অঞ্চলের প্রভুত্ব করতে না দেওয়ার স্ট্র্যাটিজিতে জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছে। তাদের কৌশল হলো ভারত যেহেতু বিএনপিকে ‘মোটামুটি মেনে নিচ্ছে’ (বেগম খালেদার জানাজায় জয়শঙ্করের আগমন ও মোদীর বিশেষ শোকবার্তা হস্তান্তর) সেহেতু বিএনপিকে দিয়ে তীব্র ভারত বিরোধীতা করানো যাবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই স্ট্র্যাটিজিক্যাল ম্যালফাংশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপির চেয়ে জামায়াতই যোগ্যতম।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তাহলে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, চীন, পাকিস্তান ও তুরস্ক’র ‘রেসের ঘোড়া’ হিসাবে জামায়াতই ১২ তারিখের নির্বাচনে ক্ষমতায় বসছে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এখনই এমন সীল মেরে দেওয়া যাবে না। ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’। কি সেই ‘পিকচার’? সেটার উত্তর খোঁজার আগেই বিবেচনায় রাখতে হবে-একটা দেশ কখন তার হাই কমিশনের স্ট্যাটাস-‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ করে? এর আগে ভারত এটা করেছিল মাত্র তিনটি দেশের সঙ্গে-পাকিস্তান-ইরাক ও আফগানিস্তান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, চীন, পাকিস্তানের সমর্থনের খবর ভারত যেমন জানে, তেমনি জানে নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ব্যাপক কারচুপি করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য চোরাই ব্যালট পেপার ছাপা হয়ে হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। বিএনপি হার্ট এন্ড সোল চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে নাকের ডগায় জাজ্বল্যমান জঙ্গি হুমকি, ভারত ভাগের হুমকি এবং একটা পার্মানেন্ট ইস্টার্ন ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার বিপদ বসে বসে দেখবে? না ‘ব্যবস্থা’ নেবে? সেই ‘ব্যবস্থা’রই পূর্ব সতর্কতাতেই কি দূতাবাসের সকল পরিবার-পরিজন-আত্মিয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সামগ্রিক বিষয়টা বিএনপি কীভাবে নিচ্ছে সেটাও জরুরি। যে যুক্তরাজ্যের সহায়তায় তারেক দেশে ফিরেছেন, সেই যুক্তরাজ্য এখন প্রকাশ্যে জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে। একটা গণতান্ত্রিক দল হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ ও চীনের সঙ্গে বাইল্যাটারাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাওয়া বিএনপিকে তারা ‘ভরসা’ করছে না। এটা জেনে বিএনপি কাউন্টার স্টেপ নিতে সম্ভবত দেরি করে ফেলেছে। তারেক-খালেদা, খালেদা-তারেক বিষয় দুটিই বিএনপির রাজনীতির ‘স্টার্টার’। সেসব করতে গিয়ে তারা খেয়াল করেনি জামায়াত কীভাবে আন্তর্জাতিক ঘোড়েলগুলোকে খাঁচায় পুরেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিএনপি এখন কি করবে? ‘Better late than never’?</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/jamaat-islam-usa-shartho/">যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং জামায়াতে ইসলামি, সম্পর্ক ও সমীকরণের বিশ্লেষণ</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/jamaat-islam-usa-shartho/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অগ্নিগর্ভ ইরান, শেষ পরিণতি কি?</title>
		<link>https://nenews.news/iran-protest-usa-israel-crisis-2026/</link>
					<comments>https://nenews.news/iran-protest-usa-israel-crisis-2026/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Jan 2026 17:19:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[World]]></category>
		<category><![CDATA[আন্দোলন]]></category>
		<category><![CDATA[ইরান]]></category>
		<category><![CDATA[ইসরায়েল]]></category>
		<category><![CDATA[গণবিক্ষোভ]]></category>
		<category><![CDATA[যুক্তরাষ্ট্র]]></category>
		<category><![CDATA[যুদ্ধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=9661</guid>

					<description><![CDATA[<p>ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করার পরই আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করবে। এমনও হতে পারে আমেরিকার আগেই পাকিস্তান থেকে ইরানে মিসাইল উড়ে যাবে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/iran-protest-usa-israel-crisis-2026/">অগ্নিগর্ভ ইরান, শেষ পরিণতি কি?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা গণবিক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। যার ফলে ইরান বিষয়ক খবর এবং বিবিধ এক পাক্ষিক মতামত আসায় প্রকৃত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যারা ২০২৪-এ বাংলাদেশে ডিপস্টেটের ষড়যন্ত্রকে ‘বিপ্লবটিপ্লব’ বলে আসছেন তারাই আবার ইরানের জনবিক্ষোভকে সমর্থন করতে পারছেন না, কারণ ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যোগসাজসকে বৈধ্যতা দিলে তারাও ওই পাপে পাপী প্রমাণিত হবেন। আবার মৌলবাদীদের ‘বস’ আমেরিকা তাদের প্রিয়ভাজন ইসলামি হুকুমতকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে বলে গণবিক্ষোভ সমর্থন করছেন না, অথচ আমেরিকাকে সরাসরি সমালোচনাও করতে পারছেন না। এদিকে বিগত সরকারের সমর্থকরা ডিপস্টেটের ষড়যন্ত্রকে শেখ হাসিনা কঠোরভাবে দমন করতে না পারলেও খামেনি পারছেন বলে খামেনিদের ৪৬ বছরের বর্বর স্বৈরশাসন সমর্থন করে বসছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কেউ কেউ আশাবাদী হয়ে বলছেন―মার্কিন-জায়ানিস্ট ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে। কেউ কেউ খামেনির স্পেশাল বাহিনীর নির্মমতাকেও ‘পার্ফেক্টলি প্রসিকিউর’ বলে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। প্রকৃতপক্ষে ইরানে কি ঘটছে সেটা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার মিডিয়ার কারণে জানাও যাচ্ছে না। এই অবস্থায় ‘নিরপেক্ষ’ সংবাদ বা ‘নির্মোহ’ বিশ্লেষণ দূরূহ ব্যাপার।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইরানে কি ঘটছে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ইরানে ইসলামি স্বৈরশাসনবিরোধী বিক্ষোভ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যম থেকে যতটুকু জানা যাচ্ছে তা হলো;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধ্বসে পড়া অর্থনীতির কারণে ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ধর্মতন্ত্র উচ্ছেদে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ইন্টারনেট এবং টেলিফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়ে, হাজার মানুষ হত্যা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ এবং আমেরিকার ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার পর দেশটির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা স্যাঙ্কশন আরও বেড়েছে। তাতে অর্থনৈতিক চাপ তীব্রতর হয়েছে, যার ফলে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের পতন হয়েছে। বর্তমানে ১.৪ মিলিয়নেরও বেশি দিয়ে ১ ডলার কিনতে হচ্ছে। এই মারাত্মক অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় সাধারণ মানুষের পেটে খাবার নেই, স্কুলের ফি দিতে পারছে না, বিদ্যুৎ বিলসহ জীবিকা নির্বাহে দেউলিয়াদশা। বার্ষিক প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির ঘটনায় মানুষ বাঁচার জন্য মরতে হলেও পিছুপা হচ্ছে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই দুরাবস্থার কোনও চাপ কিন্তু শাসক শ্রেণীর ওপর পড়ছে না। তাদের আরাম-আয়েশ, বিলাস-ব্যাসন, অস্ত্র তৈরি, কেনা-বেঁচা, হুতি-হামাস-হিজবুল্লাহকে সামরিক, অর্থনৈতিক, লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া বন্ধ হচ্ছে না। তা স্বত্বেও ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে ইরানের স্বঘোষিত &#8220;অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স&#8221; বা তেহরানের সমর্থিত দেশ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জোট ধ্বংস হয়ে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ভেনিজুয়েলায় সভ্যতাবিরোধী মাস্তানি করে সফল হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বুকের ছাতি ডবল হয়ে গেছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন―’তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে আমেরিকা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">আমেরিকা-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশে ৫০০ টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে দুই হাজার। সাধারণ মানুষের তথ্য মতে এই সংখ্যা ধারণারও বাইরে! নিহতের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি! ১৫ হাজার জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে কি করা হয়েছে জানা যায়নি। খবরে প্রকাশ; মরচ্যুয়ারিতে লাশগুলো পাশাপাশি রাখার জায়গা না থাকায় একটার উপর আরেকটা রাখা হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বিক্ষোভ সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। ইরানের সাধারণ সাংবাদিকরাও রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাঙ্গাবাজদের ‘দেশের দুশমন ও আল্লাহবিরোধী’ বলেও বিক্ষোভ থামাতে পারছেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ডিসেম্বরের শেষের দিকে তেহরানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়, তারপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো থাকলেও পরে বিক্ষোভকারীরা সরকার বিরোধী বক্তব্য দিতে থাকে এবং শেষে ৪৬ বছরের ইসলামি শাসন উচ্ছেদের ডাক দেয়। এর আগের বিক্ষোভের সঙ্গে এবারের পার্থক্য হলো, এবার এর পেছনে শাহ রেজা পাহলভীর পুত্র আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর ইন্ধন রয়েছে। ইরানের এই নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সমর্থনে কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন এবং তিনিই চলমান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">রেজা পাহলভী, আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য এটি মাহেন্দ্রক্ষণ, কারণ সদ্য গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধে ইসরায়েল হামাসকে পরাজিত করেছে। লেবাননের শিয়া জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক ঝটিকা আক্রমণে সিরিয়ায় ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং ক্লায়েন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করেছে আমেরিকা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের উপরও ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনীর হামলা হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইসলামিক বিপ্লবের আগে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ মিত্র ছিল। আমেরিকান সামরিক অস্ত্র কিনেছিলেন এবং সিআইএ এজেন্টদের প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর নজরদারি করার জন্য সবরকম সহায়তা করেছিলেন। তারই প্রতিদানে সিআইএ ১৯৫৩ সালে একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শাহের শাসনকে শক্তিশালী করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>১৯৭৯ সালে শাহ’র শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে তিনি ইরান থেকে পালিয়ে যান। এরপর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব আসে, যা ইরানে ধর্মতান্ত্রিক সরকার তৈরি করে। সেই বছরের শেষের দিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে শাহের প্রত্যর্পণের দাবি করে এবং ৪৪৪ দিনের জিম্মি সংকট সৃষ্টি করে, যার ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সেই থেকে ইরানের উপর মার্কিন স্যাঙ্কশন চলছে। কখনও খানিকটা স্থিমিত, কখনও তীব্রভাবে।</strong></p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="819" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup-819x1024.jpg" alt="" class="wp-image-9662" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup-819x1024.jpg 819w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/Iran-coup.jpg 1638w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>প্রশ্ন হচ্ছে দুই সপ্তাহ পার হলেও বিক্ষোভকারীরা সফল হচ্ছে না কেন?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>প্রথমত: </strong>বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে কিন্তু সেই খবর বাইরে আসছে না। বিক্ষোভকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ায় অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ বিক্ষোভ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে। নিহতদের অধিকাংশই ২০ থেকে ২৫/২৬ বছরের তরুণ। </p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দ্বিতীয়ত:</strong> খামেনির স্বৈরশাসনে জর্জরিত ইরানবাসী এই শাসনের অবসান চায় অথচ ‘আমেরিকার দালাল’ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসন চায় না। </p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তৃতীয়ত: </strong>এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত মার্কিন অর্থ সাহায্য আসেনি, যেমনটা বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই এসেছিল। তাহলে কি বিক্ষোভ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে চলেছে? না, সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইরানের মিত্ররা কি করছে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>আন্তর্জাতিকভাবে ইরান তার মিত্র রাশিয়া ও চীনের সহায়তা পাচ্ছে বটে, তবে তা অপ্রতুল। রাশিয়া ইউক্রেনে নতুন করে হামলা শুরু করায় এবং ভেনিজুয়েলাকাণ্ডে সহায়তা করার জন্য তাদের দুটি অয়েল ট্যাঙ্কার মার্কিনীরা জব্দ করায় কিছুটা ব্যাকফুটে। চীন তার জ্বালানি তেলে বৃহৎ অংশ পেত ভেনিজুয়েলা থেকে। সেখানে তাদের বিনিয়োগ ২শ’ বিলিয়নেরও বেশি, যা ভেস্তে যেতে বসেছে। চীনে তেল-গ্যাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম সাপ্লায়ার ছিল ইরান। এখন সেটাও বন্ধ। তাই চীন সরাসরি সামরিক সহয়তা দিতে পারছে না।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তার পরও খামনীর হুঙ্কার?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">খামেনী তীব্র ভাষায় বিক্ষোভকারীদের হুমকি দিয়েছেন এবং নির্মমভাবে সেনাবাহিনী দিয়ে দমন করাচ্ছেন। এর ফলে ধরে নিতে হবে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের হুমকির পরও ইরান ভীত হচ্ছে না, কারণ চীন গোপনে সামরিক সহায়তা করেছে। গত বছর ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লাইন’ এবং আমেরিকার ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পরে চীনা সামরিক পরিবহন বিমানের ঘন ঘন তেহরানে আসা-যাওয়া প্রমাণ করছে যে ইরান এখনও বৈশ্বিক আক্রমণ সামলাতে সক্ষম। সেই জোরেই বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মমতা বাড়াতে পারছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তাতেই কি শেষরক্ষা হবে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রাম্প আবারও বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার জন্য মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ইরানও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে বলেছে- ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এদিকে ইসরায়েল মার্কিন হস্তক্ষেপের জন্য হাই অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে। ভূমধ্য সাগরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রয়োজনী সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রাম্প বলেছেন-‘আমরা খুব শক্তিশালী বিকল্প পখ খুঁজছি’। তিনি আরও বলেছেন, ‘তিনি ইরানের বিরোধী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। ইরানের নেতারা তাকে ফোন করেছিলেন এবং আলোচনা করতে চান এবং তিনি তাদের সাথে কথা বলতে পারেন।‘ এর জবাবে ইরানের এলিট বিপ্লবী গার্ডের প্রাক্তন কমান্ডার কালিবাফ বলেছেন-‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। ইরানের উপর আক্রমণ হলে ইসরায়েল এবং সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এবং জাহাজ আমাদের আক্রমণের লক্ষ্য হবে।‘</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানি কর্তৃপক্ষের সহিংসতার খবরে হতবাক এবং সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নিহত শহীদদের সম্মানে’ রবিবার কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন- &#8216;ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্থিতিশীলতার মূল পরিকল্পনা করছে এবং ইরানের শত্রুরা সন্ত্রাসীদের যারা মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়, ব্যাংক এবং জনসাধারণের সম্পত্তি লুট করেছে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি: আপনাদের ছোট বাচ্চাদের দাঙ্গাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের সাথে যোগ দিতে দেবেন না।‘</strong></p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="819" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS-819x1024.jpg" alt="" class="wp-image-9663" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS-819x1024.jpg 819w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2026/01/death-trial-hold-in-iran-NE-NEWS.jpg 1638w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইয়ার মনে করেন, বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। তিনি মনে করেন এই বিক্ষোভ ইরান শেষ পর্যন্ত দমন করবে, তবে ইরানের এলিটরা এখনও সংঘবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে এবং তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গ দেবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানী বিক্ষোভকারীদের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। ট্রাম্প বলেন-‘ইরান স্বাধীনতার দিকে এগোচ্ছে সম্ভবত আগের মতো ব্যর্থ হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।&#8217;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক ফোনালাপে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিলেন। কেএনবিসি নিউজ এ খবর দিয়েছে। ইরান সেনাবাহিনীও কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে মিডিয়ায় দেখিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>শেষ পর্যন্ত কি ঘটতে পারে?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এটা এক জটিল অংক। তার পরও অনুমান করা যেতে পারে মাত্র। সে অনুযায়ী―</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এক.</strong> আমেরিকা এই মুহূর্তে অলআউট অ্যাটাকে যাবে না কারণ, তাতে করে দ্বিধাগ্রস্থ ইরানীরা বিক্ষোভ থামিয়ে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে চলে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দুই.</strong> আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করবেই, তবে সেটা নিজে নয়, ইসরায়েলকে দিয়ে। কেননা ভেনিজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করার পরও চীনকে কাবু করতে হলে চীনে ইরানী সাপ্লাই বন্ধ করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তিন.</strong> ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করার জন্য মুখিয়ে আছে কারণ, তারা জানে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি জঙ্গি গোষ্ঠীকে টোটালি ডিসমেন্টাল করার জন্য তাদের হার্টলাইন ইরানকে ঠুকে দিতে হবে। এটা তাদের টেরিটোরি এক্সপ্যানশনের জন্যও জরুরি। ইসরায়েল তার নিকটবর্তী জর্ডান, মিশরকে বিপুল পরিমানে কারিগরি সহায়তা দিয়ে ‘বন্ধু’ বানিয়ে রেখেছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন আর স্কাড যুগে ফিরতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে এখন তাদের একমাত্র এনিমি-ইরান।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>চার.</strong> ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ করার পর পরই আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করবে। এক্ষেত্রে তারা সবাইকে চমকে দিয়ে পাকিস্তানকে মাঠে নামিয়ে দেবে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে আমেরিকান সামরিক সরঞ্জাম পৌছুতে শুরু করেছে। এমনও হতে পারে আমেরিকার আগেই পাকিস্তান থেকে ইরানে মিসাইল উড়ে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>পাঁচ.</strong> হুমকি দেওয়ার পরও আমেরিকার ইরানে আক্রমণ না করার আরেকটি কারণ, তারা রাশিয়ার দুটি অয়েল ট্যাঙ্কার জব্দ করার পর রাশিয়া পাল্টা অ্যাকশন দেখিয়েছে পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের শহরগুলোতে হাইপারসনিক মিসাইল দেগে। এটা রাশিয়ার স্পষ্ট হুমকি-রাশিয়াকে ঘাটাতে আসলে ন্যাটো সদরদপ্তর উড়িয়ে দেওয়া হবে। কেননা ন্যাটো মারফৎ ইউক্রেনে যতো সামরিক সরঞ্জাম আসে তার সবই পোল্যান্ডে ডাম্প করা থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদি শেষ পর্যন্ত আমেরিকা-ইসরায়েল ইরানে এয়ার অ্যাটাক করেও তথাপি খামেনীর পতন ঘটবে না যতক্ষণ না ল্যান্ড ফোর্স ইনভেড না করছে। আমেরিকা-ইসরায়েল সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করে বসে নেই। অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে চলমান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘মোসাদ’ রয়েছে। তারা দীর্ঘনি ধরেই ‘ফিল্ডওয়ার্ক’ করে চলেছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে থেকে সঠিক সময় সঠিক জায়গাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইন্টেলিজেন্স ওয়ার্ক করে চলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>স্মরণ রাখা দরকার ইসরায়েল যে ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ১২ দিন ধরে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ পরিচালনা করেছিল সেই ‘রাইজিং লায়ন’ কি? সেটি ইরানের রেজা শাহ পাহলভীর আমলের পতাকার সিংহ! অর্থাৎ গত বছরই ইসরায়েল জানত মোহাম্মদ রেজা পাহলভীই হবে খামেনীর রিপ্লেসমেন্ট।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">‘পেটে খেলে পিঠে সয়’! ইরানের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা এতটাই চরমে যে তারা এখন আর ধর্ম-ধার্মিকতা দেখছে না। তাদের এখন একটাই চাওয়া- মোল্লাতন্ত্র হঠাও। প্রয়োজনে রাজা আসুক, শাহ আসুক, অন্তত খেয়ে পরে তো বাঁচি। বিক্ষোভকারীরা দেশদ্রোহী, না খামেনীর রেজিম দেশদ্রোহী সেই বিচার এবং বাঁচার জন্য বিদেশিদের ডেকে আনা বিশ্বাসঘাতকতা নাকি না খেতে পেয়েও মোল্লাতন্ত্রকে মেনে নেওয়া কোনটা সঠিক? </p>



<p class="wp-block-paragraph">হয়ত কোনও এক রাতে কিংবা সকালে ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমান ছেয়ে ফেলবে ইরানের আকাশ। হয়ত সাময়ীকভাবে হলেও মানুষ মুক্তি পাবে ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে। সেটা ভুল না সঠিক সে বিচার আমরা করতে পারি না কারণ, ভরপেট খেয়ে কোনোভাবেও অভুক্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করা যায় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/iran-protest-usa-israel-crisis-2026/">অগ্নিগর্ভ ইরান, শেষ পরিণতি কি?</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/iran-protest-usa-israel-crisis-2026/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তারেক রহমান দেশে ফেরায় জামায়াতের আশা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে</title>
		<link>https://nenews.news/tareq-rahman-yunus-jamaat-election-uncertainty/</link>
					<comments>https://nenews.news/tareq-rahman-yunus-jamaat-election-uncertainty/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 29 Dec 2025 15:27:58 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[জামায়াত ইসলামি]]></category>
		<category><![CDATA[ডঃ ইউনুস]]></category>
		<category><![CDATA[তারেক রহমান]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বিএনপি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=9123</guid>

					<description><![CDATA[<p>আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দিলে তাদের বিজয়ী হওয়ার ভীতি, অন্যদিকে নিষিদ্ধ রেখে নির্বাচনকে ভারত ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মেনে না নেওয়ার ভীতি। </p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/tareq-rahman-yunus-jamaat-election-uncertainty/">তারেক রহমান দেশে ফেরায় জামায়াতের আশা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>ভারতের চাণক্যনীতি-কৌশলের কাছে তারেক রহমান অনেকটা ‘দুগ্ধপোষ্য শিশু’। কেন সে ব্যাখ্যার আগে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাপ্রবাহ দেখে আসা যাক। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হওয়া-না হওয়ার সম্ভবনা ফিফটি-ফিফটি। খুব দ্রুতই এই পরিসংখ্যান পরিবর্তীত হচ্ছে। বাংলাদেশের ভালনারেবল পলিটিক্সের যৎসামান্য খবর রাখি তাতে বরাবরই বলে এসেছি-&#8216;ইউনূসের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে না।&#8217; &#8216;কেন হবে না&#8217; তার পেছনে এবং &#8216;কেন হবে&#8217; তার পেছনেও শক্তিশালী যুক্তি আছে। আসুন বিস্তারে আলোচনা করা যাকঃ</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ইস্যু-আওয়ামী লীগঃ</p>



<p class="wp-block-paragraph">জুলাই-আগস্ট রেজিম চেঞ্জের স্টেকহোল্ডাররা আওয়ামী লীগকে &#8216;ফ্যাসিবাদ&#8217;, &#8216;স্বৈরাচারী&#8217;, &#8216;খুনি&#8217; তকমা দিয়ে ব্যান করেছে। প্রথমদিকে গণতন্ত্রের মুখোশধারীরা লীগের ব্যান বিষয়ে নৈর্ব্যক্তিক থাকলেও পরে ব্যান উদযাপন করে বুঝিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী কয়েকটি দল বাদে দেশের সকল দল লীগকে ব্যান করিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার বিজয়োৎসব করছে। লীগ রাজনীতি থেকে বিতাড়িত হয়েছে সেই আনন্দে তাদের নিজেদের ভেতরকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত মিনিমাইজ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু বাগড়া দিয়েছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো। তাদের সাফ কথা-সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলেও দলটি নির্বাচনে অযোগ্য হতে পারে না। অধিকন্তু দেশের ৫০% ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার হরণ করা যায় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সুতরাং একদিকে লীগকে নির্বাচন করতে দিলে তাদের বিজয়ী হওয়ার ভীতি, অন্যদিকে তাদেরকে নিষিদ্ধ রেখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর বাতিল করার বা মেনে না নেওয়ার ভীতি। এই সংকটের আপাতঃ সমাধান-নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখা।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ইস্যু-তারেক রহমানের বিএনপিঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বতভাবে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামরিক-লজিস্টিক-কূটনৈতিক এবং মানিবিক সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার পরও এদেশের প্রায় নব্বই শতাংশ ধর্মান্ধ মুসলিম জনগোষ্ঠী তীব্র ভারতবিরোধী। ভারত সেটা জানে। তারা আরও জানে আজকের তারেক রহমান ও বিএনপি আগাগোড়া ভারতবিরোধী। বিএনপির তিন টার্মের শাসনামলে বিএনপি তথা তারেক সেটা প্রমাণও করেছে। তার পরও ভারত তারেকের দেশে ফেরার ‘গ্রীণ সিগনাল’ দিয়েছে কেন? এর পেছনেই সেই চাণক্যনীতি।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>প্রথমতঃ</strong> ভারত তারেক রহমানকে শর্ত দিয়েছে-আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে, শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ‘ক্যাঙ্গারুকোর্ট’ আইসিটির গঠন ও সেই কোর্টের বিচার বাতিল করা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কন্টিনিউ করার ব্যবস্থা করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দ্বিতীয়তঃ</strong> সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের সঙ্গে ইউনূস রেজিমের করা সকল অন্যায়-অপরাধের বিচার করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তৃতীয়তঃ</strong> জামায়াতসহ সকল র&#x200d;্যাডিক্যাল ইসলামিস্ট দলগুলো এবং তাদের ছত্রছায়ায় প্রতিপালিত জঙ্গিরা যেন কোনোভাবেও ক্ষমতার অংশ হতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই তিনটি অপশন আপাতদৃষ্টিতে তেমন কঠিন মনে না হলেও আত্মঘাতি ও ব্যুমেরাংয়ের মত। আওয়ামী লীগের ১৪ দলের জোট বাদে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতসহ ইসলামিস্ট ও বাম ধারার দলগুলো সকলেই তীব্র ভারতবিরোধী। তাদের একমাত্র নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড-এন্টিইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট, যা দিয়ে সহজেই ৯০ শতাংশ ধর্মান্ধ ভোটার টানা যায়। বাংলাদেশের অনেক মানুষ কেন ভারতবিরোধী সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন যেহেতু ভোটের বাজারে ভারতপন্থী কেউ নেই, ভারতবিরোধী সকলের হাতে এন্টিইন্ডিয়া ট্রাম্পকার্ড। তাহলে সেই কার্ড দিয়ে কে কাকে ল্যাং মারবে? জামায়াত ভোটার টানতে চাইবে ‘বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য হতে দেব না’ বলে। বিএনপিও ওই একই প্রতিশ্রুতি দেবে। এনসিপিসহ বাকি দলগুলোও বলবে-‘ভারতের চোখে চোখ রেখে দেশ শাসন করব’ বলে। এখন কে কার ভোট কাটবে? গণতন্ত্রফনতন্ত্র, স্বার্বভৌমত্ব টাইপ আর কোনও টুলস তো নেই। অর্থাৎ তাদের একমাত্র নির্বাচনী কৌশল এন্টিইন্ডিয়া। আরও নির্দিষ্ট করে ‘C’ কে পরাভূত করবার জন্য ‘A’ এবং ‘B’র হাতে একই অস্ত্র। তারেক রহমান নির্বাচনে সেই অস্ত্রটিই ব্যবহার করবে যা জামায়াতসহ ইসলামিস্ট দলগুলো মারনাস্ত্র ভেবে ব্যবহার করে জিতবে বলে নিশ্চিত ছিল। </p>



<p class="wp-block-paragraph">তারেক দেশে ফেরায় এ কাণেই জামাতের আশা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরে এবারই প্রথম জামায়াত তখ্তে-তাউসে বসার নিশ্চিত সম্ভবনা দেখছিল। এখন সেটাতে বাগড়া দিচ্ছে তারেক তথা বিএনপি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জামায়াতসহ ইসলামিস্টরা এত সহজে বিএনপিকে ওয়াকওভার দেবে ভাবার কারণ নেই। তাই ধরে নেয়া যায় তাদের ‘ঘেটু পুতুল’ ইউনূস, ‘কওমের ভাই’ সেনাবাহিনীর একাংশ এবং ব্যঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা দেশি-বিদেশি জঙ্গি গ্রুপগুলো অ্যাট এনি কস্ট নির্বাচন হতে দেবে না। যদিও তাদের গায়ের সেঁটে থাকা বামপন্থী নামধারী চেমো উকুনরা ‘যে কোনো মূল্যে নির্বাচন হতে হবে’, ‘দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক গণতন্ত্র আনা হবে’, ‘ইনসাফ কায়েমের জন্য বুলন্দ আওয়াজ তুলুন’ বলে মাঠ গরমের চেষ্টা করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>ঠিক এমন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশটাই মুহাম্মদ ইউনূসের দরকার। তিনি নির্বাচন দেওয়ার জন্য আসেননি। এসেছেন তার প্রতি করা বিগত সরকারের ‘অপমান-নিপীড়ন’-এর প্রতিশোধ নিতে, নিজের নতুন নতুন বিজনেস হাব খুলতে, বেশুমার অর্থ আয় করতে এবং তার ম্যানুফ্যাক্চারিং বসদের প্রতিদান পাইয়ে দিতে, যা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি চাপে পড়ে নির্বাচনের তারিখ দিয়েছেন, কিন্তু নিশ্চিত জানেন নতুন সরকার বসলেই তাদের সর্বপ্রথম আঘাত আসবে তার উপর। কোনও বিচক্ষণ ব্যক্তি জেনেশুনে এমন বিপদে পড়তে চাইবেন? নিশ্চিতভাবেই না।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এতেও যদি নির্বাচনী গাড়ি চলতে থাকে, তাহলে চাকা পাংচার বা ফিসপ্লেট তুলে হলেও সেই গাড়িকে লাইসচ্যুত করবে জামায়াতসহ ইসলামিস্ট জঙ্গিরা। এমন এনার্কি ছড়িয়ে দেওয়া হবে যেন সাধারণ মানুষ প্রণভয়ে ভোটের নামও মুখে না আনতে পারে। অর্থাৎ ভোট হচ্ছে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার এইসব এনার্কি, জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, খুন-খারাবি, চরম নৈরাজ্যর পরেও যদি নির্বাচন হচ্ছে মনে হয় তখন অবিশ্বাস্য কোনও মিরাকল ঘটে যেতে পারে! যেমন, জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারছে না বুঝতে পারলে জামায়াত-ইউনূস মিলে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়ে তাদেরকে বিএনপির বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেবে। তার আগে লীগের কাছ থেকে ইনডেমনিটি আদায় করে নেবে যেন তারা ইউনূস-জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ না নেয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="820" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS-820x1024.jpg" alt="ঢাকার একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরনে আহত ৪ জন। উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মাদ্রাসা ভবনটির দেয়ালের একটি অংশ উড়ে্রাসায়" class="wp-image-9124" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS-820x1024.jpg 820w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Madrasa-Bomb-Blast-Dhaka-NE-NEWS.jpg 1639w" sizes="(max-width: 820px) 100vw, 820px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">এসব দেখেশুনে বিএনপি যদি দেখে তারেক ফেরার পর তাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাইছে ইউনূস-জামায়াতগং। তখন বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে অ্যালায়েন্স করে ‘দুই ভাই’ ক্ষমতা ভাগাভাগী করে নেবে। সেটা বুঝে ভারতও ইউনূসকে চাপ দিয়ে লীগকে মাঠে নামার ব্যবস্থা করে দেবে। তখন বিস্ময়করভাবে ইউনূস-আওয়ামী লীগ অ্যালায়েন্স হবে ‘জঙ্গি ঠেকানোর’ কাভারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এমনকি এটাও ঘটতে পারে যে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামিস্টরা মিলে নির্বাচন করিয়েই ছাড়বে বুঝে ইউনূস লীগকে মাঠে নামিয়ে বহুমুখি সংঘাত বাঁধিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ তিনি আরও একবছর সময় পাবেন ‘জর্জ সোরেস মিনি’ হওয়ার জন্য।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সবকিছু ঘটে যে চোলাই পাওয়া যাবে তার কি নাম দেয়া যায় জানি না। তবে আগামী মাসটা হতে চলেছে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ক্রশিয়াল মাস। এ মাসে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। চরম শত্রু মিত্র হয়ে উঠতে পারে, আবার হরিহর মিত্র ডাইরেক্ট শত্রু হয়ে উঠতে পারে। এই সবকিছুর মধ্যে এমন এক সিচ্যুয়েশন ক্রিয়েট হতে পারে যখন এই দলগুলোর অনেকেই বলবে- ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা হোক’। অনলি শী ক্যান ট্যাকল দ্য ট্রিমেন্ডাস আনরেস্ট আনসার্টেনিটি।</p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="820" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS-820x1024.jpg" alt="নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সামরিক জান্তা ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই ডিসেম্বর ২০২৫-এ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশটিতে।" class="wp-image-9125" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS-820x1024.jpg 820w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Myanmar-Election-2025-NE-NEWS.jpg 1639w" sizes="(max-width: 820px) 100vw, 820px" /></figure>
<p>The post <a href="https://nenews.news/tareq-rahman-yunus-jamaat-election-uncertainty/">তারেক রহমান দেশে ফেরায় জামায়াতের আশা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/tareq-rahman-yunus-jamaat-election-uncertainty/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাদির মতো কাল্ট বানাতে হয়</title>
		<link>https://nenews.news/yunus-khomota-cult-hadi/</link>
					<comments>https://nenews.news/yunus-khomota-cult-hadi/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 22 Dec 2025 11:14:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[ওসমান হাদি]]></category>
		<category><![CDATA[ক্ষমতা]]></category>
		<category><![CDATA[জামায়াত ইসলামি]]></category>
		<category><![CDATA[ডঃ ইউনুস]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=8905</guid>

					<description><![CDATA[<p>একজন ইউনূস জনা বিশেক উপদেষ্টা, শীর্ষ সেনা-পুলিশ কর্মকর্তা, আমলা আর ইউএসএআইডি’র ডলার গেলা ইন্টেলেকচ্যুয়াল নিয়ে টিকতে হলে কাল্ট তৈরি করতে হয়। </p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-khomota-cult-hadi/">ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাদির মতো কাল্ট বানাতে হয়</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">এভাবেই কাল্ট বানাতে হয়। এটাই ইনফরমেশনওয়ার-এর স্ট্রাটিজি। একজন ইউনূস জনা বিশেক উপদেষ্টা, শীর্ষ সেনা-পুলিশ কর্মকর্তা, কয়েকশ আমলা আর কয়েক হাজার ইউএসএআইডি’র ডলার গেলা <a></a>ইন্টেলেকচ্যুয়াল নিয়ে সিআইএ-আইএসআই-এর মদদে ক্ষমতা দখল করে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে টিকতে পারত না, যদি না তার পেছনে প্রায় ১১ কোটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি আদর্শের জনগোষ্ঠীর মৌন সমর্থন থাকত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (OHCHR) তথ্য মতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তৎক্ষণাৎ সহিংসতায় প্রায় ২৫০ জন, &#8216;হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি&#8217; (HRSS)-এর তথ্যমতে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১১৯ জন, অন্য একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৬৩৭ জন, মানবাধিকার সংস্থা &#8216;আইন ও সালিশ কেন্দ্র&#8217; (ASK)-এর হিসাব মতে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ১২১ জন, এবং প্রায় ৫,০০০ মানুষ আহত, &#8216;গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স&#8217; (GCDG)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ৪৭টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মৃত্যু ঘটেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০২৫ সালের জুনের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও অন্তত ১৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। সব মিলিয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১শ’র ওপরে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো যেন অচল খুচরো পয়সা! পকেটে আছে কিন্তু বিনিময় করা যায় না। এরা যেন মানুষই না! এই মৃত্যুগুলো ডান-বাম-মধ্যডান-মধ্যবাম-প্রগতিশীল-সুশীল-ভাড়াটে ইন্টেলেকচ্যুয়ালদের কাছে পিঁপড়ের মত মৃত্যু, জুতো যার হিসাব রাখে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে অন্তত ৬৩১ জন ছাত্র-জনতা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে প্রায় ১৪০০ জন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই মৃত্যুগুলো গেজেটভুক্ত। সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র, এনসিপি, বিএনপি, জামায়াতসহ ডান-বাম সকলেই এই মৃত্যুকে দেশের ইতিহাসের ‘নৃশংসতম’, ‘ভয়াবহ’, ‘পাশবিক’, ‘নারকীয়’ বিশেষণে আখ্যায়িত করে বিগত সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’, ‘খুনি’ আওয়াজ তুলে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে চলেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্য এক হিসাবে দেশে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-অক্টবর) ২ হাজার ২১৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি মানুষ খুন হয়েছে— সে দেশে একজনের ওপর হামলা কেন এতটা ‘বিশেষ’ হয়ে উঠল?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টবর পর্যন্ত দেশে নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম-খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৬১০টি। ১৫ মাসে (গত বছরের আগস্ট থেকে) রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মবসন্ত্রাস, ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নদীতে ভেসে আসা অজ্ঞাতপরিচয় লাশের সংখ্যাও মাসে গড়ে ৪০-৪৫টির কম নয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক ওসমান হাদির মৃত্যু ওইসব মৃত্যুকে ম্লান করে দিয়েছে। হাদির মৃত্যুকে যারা ‘ক্যাশ’ করতে চাইছেন তারা হাদির মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে বিশেষ বিশেষ স্থাপনা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, মবভায়োলেন্স করে অর্ধেক পরিকল্পনা হাসিল করেছেন। আশা করছেন বাকিটাও পারবেন। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী হাদিকে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ বলেছেন! বিভিন্ন বেনিফিশিয়ারি মহল থেকে আরও যেসব বিশেষণ এসেছে তাতে মনে হতে পারে বাংলাদেশ তার ‘স্রষ্টা’ বা ‘জাতির ত্রাণকর্তা’ হারিয়েছে। শাহবাগ ‘হাদি চত্তর’ হয়েছে। তাকে বিদ্রোহী কবি নজরুলের কবরের পাশে কবরস্ত করা হয়েছে। দাবী উঠেছে ঢাকার নাম বদলে হাদির নামে রাখার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলও তার নামকরণ হয়েছে। হয়ত আরও অনেক কিছুর নাম বদলে তার নামে করা হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অথচ ১২ ডিসেম্বর আততায়ীর গুলিতে আহত হওয়া এবং ১৮ তারিখে মৃত্যুর পর এতগুলো দিন পরেও সরকার তার খুনিকে ধরতে পারেনি। পাবলিকলি অভিযোগ করিয়েছে-‘হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে’, কিন্তু সরকারিভাবে ভারতে পালানোর খবর ভারতকে জানায়নি এবং খুনিকে ফেরৎ চায়নি। এরই মধ্যে পুলিশের শীর্ষ মহল থেকে বলা হয়েছে-‘খুনির ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই’। প্রশ্ন উঠবে-সীমান্তে বিজিবি কেন খুনিকে আটকাতে পারেনি? কিংবা কেন সীমান্ত পার হতে দিয়েছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় বর্তমানে যে কয়টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে তাদের যে কেউ নিহত হলেও হাদির মত রাষ্ট্রীয় অ্যাটেনশন পেতেন না। গতকাল নিহত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার। একই দিনে সুদানে নিহত ৬ সেনা সদস্যের মরদেহ দেশে এসেছে, তিন দিন আগে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক গার্মেন্ট কর্মীকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে ‘তৌহিদী জনতা’ নামক সন্ত্রাসীরা। এই মৃত্যুগুলোতে একটা বিবৃতি দিয়ে সরকার দায় সেরেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর তাতেই জোরালোভাবে প্রশ্ন ওঠে এইসব মৃত্যু থেকে ওসমান হাদির মৃত্যু কী কারণে ভিন্নতর? একজন সাধারণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকে কি কারণে রাতারাতি ‘মসীহা’ বানিয়ে দেওয়া হলো? এর সম্ভাব্য উত্তর-অশ্লীল গালিগালাজ ও তীব্র ভারত-আওয়ামী লীগ বিরোধীতা করে হঠাৎ আলোচনায় আসা হাদি ডিপস্টেট, আইএসআই, সিআইএ, MİT, সিভিকোমিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট ও ঘৃণ্য এক্সট্রিম রাইট উইং পলিটিক্সের collateral damage!</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/yunus-khomota-cult-hadi/">ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাদির মতো কাল্ট বানাতে হয়</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/yunus-khomota-cult-hadi/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পুতিনের ৪৮ ঘণ্টা ভারত সফর নিয়ে বিস্তারিত</title>
		<link>https://nenews.news/russia-president-putin-india-visit/</link>
					<comments>https://nenews.news/russia-president-putin-india-visit/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Dec 2025 17:54:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Economy]]></category>
		<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[World]]></category>
		<category><![CDATA[জ্বালানি]]></category>
		<category><![CDATA[পুতিন]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ভারত]]></category>
		<category><![CDATA[রাশিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[সফর]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=8577</guid>

					<description><![CDATA[<p>যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পুতিন স্পষ্টভাবেই বলেছেন-‘রাশিয়া ভারতে জ্বালানি সরবরাহ ‘নিরবচ্ছিন্ন’ রাখতে প্রস্তুত</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/russia-president-putin-india-visit/">পুতিনের ৪৮ ঘণ্টা ভারত সফর নিয়ে বিস্তারিত</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">ভ্লাদিমির পুতিনের ৪৮ ঘন্টা ভারত সফর শেষ হয়েছে। যে সফরের দিকে শ্যেন দৃষ্টি রেখেছিল বিশ্বের বাকি পরাশক্তিগুলো, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কেননা চীন ও <a></a>যুক্তরাষ্ট্র উভয়ে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনে নিয়মিত, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ; রাশিয়া ভারতে তেল বিক্রি করা টাকা দিয়ে ইউক্রেনে হামলার অস্ত্রের যোগান দেয়!</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিনের ভারত সফর চলাকালিনই যুক্তরাষ্ট্রের দুজন বাণিজ্য প্রতিনিধি ভারত সফর চূড়ান্ত করেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকতে চায় না। সে কারণে ট্রেড ডিল হোক বা না হোক যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বন্ধু থাকতে আগ্রহী।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="940" height="580" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/India-Russia-seminar.jpg" alt="" class="wp-image-8580" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/India-Russia-seminar.jpg 940w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/India-Russia-seminar-300x185.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/India-Russia-seminar-768x474.jpg 768w" sizes="(max-width: 940px) 100vw, 940px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পুতিন স্পষ্টভাবেই মার্কিন সমালোচনা করে বলেছেন-‘রাশিয়া ভারতে জ্বালানি সরবরাহ ‘নিরবচ্ছিন্ন’ রাখতে প্রস্তুত, কারণ দিল্লি ট্রাম্পের মস্কোর তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপের মুখে আছে।‘</p>



<p class="wp-block-paragraph">যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনার উপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, তাদের যুক্তি-এর ফলে ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধে অর্থায়ন করা হচ্ছে। পুতিন শান্তির মধ্যস্থতা করার জন্য মার্কিন প্রচেষ্টার মধ্যেই আবারও সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইউক্রেনকে ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে, অন্যথায় রাশিয়া এটি দখল করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বক্তৃতাকালে পুতিন প্রশ্ন তোলেন যে, যখন আমেরিকা নিজেই মস্কো থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে, তখন তেল কেনার জন্য ভারতকে কেন শাস্তি পেতে হবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়া তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলামে ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। ছয়টি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই গ্রিডের সাথে সংযুক্ত এবং চারটি নির্মাণাধীন। পুতিন বলেন-‘একবার সম্পূর্ণভাবে চালু হলে, এটা ভারতের সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় অবদান রাখবে। আমরা ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক কেন্দ্র এবং চিকিৎসা ও কৃষিতে অ-শক্তি পারমাণবিক প্রযুক্তি সন্নিবেশ করেছি।‘</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন আরও বলেছিলেন, রাশিয়া সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা আজ ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সক্ষম।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="800" height="493" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-and-Modi-selfie.jpg" alt="" class="wp-image-8581" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-and-Modi-selfie.jpg 800w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-and-Modi-selfie-300x185.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-and-Modi-selfie-768x473.jpg 768w" sizes="(max-width: 800px) 100vw, 800px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর বৈঠকে নেতারা বিবৃতি পাঠ করে জানান যে ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে একমত হয়েছে। কোনও মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি, তবে জাহাজ নির্মাণ, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চীনা মিডিয়া হাইলাইট করেছে যে পুতিনের ভারত সফর দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার ভেতরেই চলছে। ট্রাম্প বারবার ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই চাপ সত্ত্বেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজনীয়তায় ‘রাশিয়ার সাথে জ্বালানি সহযোগিতা ছিন্ন করছে না।‘</p>



<p class="wp-block-paragraph">গ্লোবাল টাইমস সংবাদপত্র চীনের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের লি হাইডংকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রাশিয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ’ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার মানে চীন মেনে নিয়েছে ভারতের ওপর আমেরিকার খবরদারিকে পুতিন থোড়াই কেয়ার করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাশিয়া ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে ধারাবাহিকভাবে &#8216;কৌশলগত সুরক্ষা জাল&#8217; হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণে ভারত ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক কতটা প্রসারিত করতে ইচ্ছুক তা অনিশ্চিত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও পুতিন-মোদী যুদ্ধবিমান বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কোনও মেগা চুক্তি ঘোষণা করেননি, তার পরও মনে করা হচ্ছে ভারত এক্ষেত্রে ‘চাণক্য নীতি’ অবলম্বন করেছে, অর্থাৎ কোনোধরণের চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মিডিয়াকে না জানানো। মনে রাখা দরকার পুতিনের ২০০ জন সফরসঙ্গীদের মধ্যে রাশিয়ার সরকারি সমরাস্ত্র প্রতিষ্ঠানের সিইও ছিলেন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কর্ণধার ছিলেন এবং এস-৫৭ যুদ্ধবিমান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সিইও ছিলেন। আর ছিলেন ৭ জন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, আন্তন সিলুয়ানভ: অর্থমন্ত্রী, ওকসানা লুট: কৃষিমন্ত্রী, আন্দ্রে নিকিতিন: পরিবহন মন্ত্রী, ম্যাক্সিম রেশেতনিকভ: অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী, মিখাইল মুরাশকো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ভ্লাদিমির কলোকোলৎসেভ: অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী। এদের মধ্যে বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসভ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন। যে বৈঠকে উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উঠেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারা প্রাথমিক সৌজন্য বিনিময় শেষেই যার যার মত ছড়িয়ে পড়েন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে কারণে মনে করা হচ্ছে কোনও এক ফাইন মর্নিংয়ে হয়ত কোনও একটি মিডিয়ায় প্রকাশ হবে-ভারত রাশিয়া থেকে অমুক অমুক নতুন প্রজন্মের সমরাস্ত্র কেনার ডিল করে ফেলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ ছাড়া আরও অনেক ঘোষণা ছিল, যার সবকটিই বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছিল যেমন, জাহাজ নির্মাণ, ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণ মেরু অঞ্চলের জলে নতুন জাহাজ চলাচলের বিনিয়োগ, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থে বিনিয়োগ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন বলেছেন, তিনি বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাখার এবং আগামী বছরগুলোতে তা ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, কারণ বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ ভারতের ছাড়যুক্ত অপরিশোধিত তেল কেনার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর বাইরে মোদী দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারা রাশিয়ায় দুটি নতুন ভারতীয় কনস্যুলেট খুলেছে এবং দুটি নতুন পর্যটন ভিসা প্রকল্প ঘোষণা করেছে। রাশিয়া টুডে বা RT টিভি চ্যানেল ভারতে একটি শাখা চালু করবে, যা ভারতীয়দের ‘বস্তুনিষ্ঠ তথ্য’ সম্প্রচারের মাধ্যমে রাশিয়া সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করবে।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="940" height="580" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-giving-flower-1.jpg" alt="" class="wp-image-8584" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-giving-flower-1.jpg 940w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-giving-flower-1-300x185.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/Putin-giving-flower-1-768x474.jpg 768w" sizes="(max-width: 940px) 100vw, 940px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন বলেছেন, তিনি এবং মোদী বিদেশ নীতিতে সহযোগিতা করছেন &#8211; ব্রিকস দেশগুলোর জোটের মাধ্যমে &#8211; একটি ন্যায়সঙ্গত এবং ‘বহু-মেরু’ বিশ্বব্যবস্থাকে উন্নীত করার জন্য। এরই মধ্যে ‘রাশিয়া টুডে’ (RT) নিউজ নেটওয়ার্কের ইন্ডিয়া ব্যুরো আজ চালু হওয়ার ফলে ভারতীয়দের দেশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সম্প্রচার করে রাশিয়া সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে ‘রাশিয়ান প্রতিনিধিদল আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্ট, এবং এমন চুক্তিতে পৌঁছেছে যা রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্বকে গভীর করবে।‘</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুই নেতার আলাপে আলাদা করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ওঠেনি, তবে ‘ভারত এবং রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে সমর্থন করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে’ বলে পুতিন আরও বলেন – ‘২০২৪ সালে মস্কোর ক্রোকাস সিটি হলে হামলাসহ বিভিন্ন হামলার কথা স্মরণ করা যায়, যে কারণে আমরা উভয় দেশই আঞ্চলিক ও বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়তে অঙ্গিকারাবদ্ধ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতীয় রাষ্ট্রীয় জ্বালানি পরিশোধক সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC.NS), এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPCL.NS), নতুন ট্যাব খুলবে, ক্রমবর্ধমান ছাড়ের কারণে জানুয়ারিতে রাশিয়ান তেল অ-অনুমোদিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে লোড করার জন্য আদেশ দিয়েছে। অর্থাৎ ভারত সুকৌশলে আমেরিকার রক্তচক্ষুকে ‘অনার’ দেখিয়েও তার তেল বাণিজ্য যথারীতি চালু রাখল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">উভয় দেশ যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার জন্য নয়াদিল্লির প্রচেষ্টার পাশাপাশি উন্নত প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পুনর্গঠনেও সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ, উপাদান, সমাবেশ এবং অন্যান্য পণ্যের ভারতে যৌথ উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারত বলেছে যে ট্রাম্পের শুল্ক অযৌক্তিক এবং অযৌক্তিক, মস্কোর সাথে মার্কিন বাণিজ্য অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাশিয়ান জ্বালানি এবং পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তেলের ক্ষেত্রে রাশিয়া যা হারায়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আবার রাশিয়া তা লাভ করে। চীন এবং পাকিস্তানের সাথে তার সীমান্ত রক্ষা করার জন্য ভারত সামরিক সরঞ্জামের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। রাশিয়া ভারতের অস্ত্রের বৃহত্তম সরবরাহকারী; ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহৃত বেশিরভাগ বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, রাইফেল এবং ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার তৈরি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারত শীর্ষ সম্মেলন চলাকালিন আরও কয়েকটি S-400 বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউনিট কেনার ঘোষণা দিতে পারে। মে মাসে পাকিস্তানের সাথে ভারতের চার দিনের সংঘর্ষে S-400 এবং দূরপাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও ভারত রাশিয়ার পাশাপাশি ফ্রান্স, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনে তার অস্ত্রের উৎস বৈচিত্র্যময় করে তুলছে, তবুও রাশিয়ান-উৎপাদিত সরঞ্জামগুলো তাদের বর্তমান মজুদের ৬০ শতাংশেরও বেশি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আগেই বলা হয়েছে; পুতিনের এই সফরকে দুরবীন দিয়ে দেখছে আমেরিকা ও চীন। এর বাইরে আরও যাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ সেই দেশ তিনটি হচ্ছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। এ বছরের গোড়ার দিকে প্যাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পরে ভারত পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করলে তুরস্ক পাকিস্তানকে Bayraktar TB2, Bayraktar Kızılelma ও ANKA ড্রোন সরবরাহ করে না শুধু, সঙ্গে সেগুলো অপারেট করার জন্য সৈন্যও পাঠিয়েছিল। যাদের বেশ কয়েকজন নূরখান এয়ারবেস ধ্বংস হওয়ার সময় নিহত হয়েছে বলে মনে করা হয়, এবং তারপর থেকে ভারত তুরস্কের সঙ্গে সকল প্রকার ভ্রমণচুক্তি বাতিল করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার ভারত এটাও মনে করে যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তুরস্ক প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে এমন সব অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছে যা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের কেনার কোনও কারণ নেই। পাশাপাশি পাকিস্তান তুরস্কে নির্মিত বিভিন্ন সমরাস্ত্র বাংলাদেশে সরবরাহ করেছে। তাই এই দুটি দেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া-ভারত সামরিক চুক্তির ফলে ভারত নতুন করে কী কী সমরাস্ত্র দিয়ে তার যুদ্ধসম্ভার সাজাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তুরস্ক এমন একটা দেশ যাকে রাশিয়া-ভারত কেউই বিশ্বাস করে না কারণ, খোদ তুরস্ক রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র কেনে, আবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইউক্রেনকে Bayraktar TB2, Bayraktar Kızılelma ও ANKA ড্রোন সরবরাহ করে! ‘খলিফা’ এরদোগান আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইসরায়েল সবার সঙ্গেই অস্ত্র কেনা-বেঁচা করে, যার মূল উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেকে ইসলামের নয়া ‘খলিফা’ হিসাবে স্টাবলিস করা। সে কারণে তাদের যেমন ইসরায়েলের সঙ্গে শত্রুতা করতেও বাধে না, তেমনি ইসরায়েলকে শত্রু বলে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বের ভান করতেও বাধে না। আর এই কাজে তাদের অন্যতম স্যাঙাত পাকিস্তান।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="940" height="580" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/putin-and-modi-1.jpg" alt="" class="wp-image-8586" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/putin-and-modi-1.jpg 940w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/putin-and-modi-1-300x185.jpg 300w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/12/putin-and-modi-1-768x474.jpg 768w" sizes="(max-width: 940px) 100vw, 940px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিন কি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুতিনের ৪৮ ঘন্টার সফরসূচিতে যেসকল কর্মসূচি ছিল তাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের বিষয় ছিল না। ভারতীয় কিছু কিছু মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা নির্ভেজাল গুজব। তবে পুতিন-মোদীর আলোচনায় অন্যভাবে উপমহাদেশের বিষয়টি উঠে এসেছে। পুতিন ভারতকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেছে যে ভারত উপমহাদেশের ক্রমবর্ধমান জঙ্গি বিকাশে আক্রান্ত হলে রাশিয়া সর্বশক্তি নিয়ে ভারতের পাশে থাকবে এবং উভয় দেশ একসঙ্গে এই অঞ্চলের বিপজ্জনক জঙ্গিত্ববাদের বিকাশ দমনে কাজ করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর বাইরে রাশিয়া যেমন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুদানকুলামে ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে, তেমনি বাংলাদেশের রূপপুরে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চালু রাখবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ যদি প্রকল্পটি বন্ধ করে দিতে চায় তাহলে চুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশকে বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যখন ভারত রাশিয়া এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে উন্নীত করে এস-৫০০ এ যেতে চাচ্ছে, যখন ভারতেই রাশিয়ার সুপারসনিক এস-৫৭ যুদ্ধ বিমানের যন্ত্রাংশ নির্মান, অ্যাসেম্বলিং হতে চলেছে, যখন রাশিয়া-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘ব্রহ্মোস’ সুপারসনিক মিসাইল বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ৫টির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে, তখন পাকিস্তানের মত পারমানবিক শক্তিধর দেশেরও কপালে চিকণ ঘাম দেখা দিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের জঙ্গিদের ‘তুরস্ক ড্রোন’ ফ্যান্টাসি শেষ পর্যন্ত ফ্যান্টাসিই থেকে যাবে। চার ঘন্টায় কলকাতা দখল করে নিতে চাওয়া কিংবা ‘এখনই সেভেন সিস্টার্স’ ভেঙে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে নিতে চাওয়ার খায়েশ প্রদানকারী নিধিরাম সর্দারদের একটু ভাবনা-চিন্তা করার দরকার আছে বৈকি। অন্তত ভারতের ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন সামরিক ডেপ্লয়মেন্ট দেখেও ভাবা উচিৎ তাদের নিজেদেরও দুটো ‘চিকেনস নেক’ রয়েছে এবং তা যে কোনও সময় ‘কাট অফ’ হয়ে যেতে পারে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/russia-president-putin-india-visit/">পুতিনের ৪৮ ঘণ্টা ভারত সফর নিয়ে বিস্তারিত</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/russia-president-putin-india-visit/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় গণভবনে না রেখে ব্যাংকে কেন স্বর্ণ রাখবেন? সত্য আর মিথ্যার মোটা দাগের পার্থক্য</title>
		<link>https://nenews.news/hasina-bank-locker-gold-controversy/</link>
					<comments>https://nenews.news/hasina-bank-locker-gold-controversy/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 29 Nov 2025 16:40:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<category><![CDATA[দুদক]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যাংকের লকার]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ হাসিনা]]></category>
		<category><![CDATA[স্বর্ণ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=8250</guid>

					<description><![CDATA[<p>ছোট একটি লকারে ৮৩২ ভরি বা প্রায় ১০ কেজি অলঙ্কার কি করে থাকে? শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে তার চরিত্র হননে মেতেছে এরা।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/hasina-bank-locker-gold-controversy/">নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় গণভবনে না রেখে ব্যাংকে কেন স্বর্ণ রাখবেন? সত্য আর মিথ্যার মোটা দাগের পার্থক্য</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">সত্য আর মিথ্যার মোটা দাগের পার্থক্য- সত্য বলতে কোনও কসরৎ করতে হয় না। মিথ্যা বলতে গেলে ভেবে-চিন্তে নিখুঁতভাবে মাপজোখ করে বিশ্বাসযোগ্য বানিয়ে বলতে হয়। এই যে অগ্রণী ব্যাংকের লকারে (একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিকে আবার ভল্ট বলা হয়েছে) শেখ হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পাওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এই মোটা দাগের পার্থক্যটি ধরা পড়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাধারণ বিবেচনায় কী বলে? সেনাবাহিনী, এসএসএফ, পুলিশ, বিজিবিসহ নানা স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত ছিলো শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় গণভবন। কমনসেন্স বলে দামী স্বর্ণালঙ্কার সেখানেই রাখার কথা। তা না করে তিনি দোনলা বন্দুকধারী ব্যাংকে রাখবেন কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিতীয়তঃ ৯ বাই ১৪ বাই ২৩ ইঞ্চি লকারে ৮৩২ ভরি বা প্রায় ১০ কেজি অলঙ্কার কি করে থাকে? তার উপর প্রদর্শীত স্বণালঙ্কারের বেশ কয়েকটিতে পুথি, পাথরও আছে। কেবলমাত্র বার বানিয়েই রাখা সম্ভব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয়তঃ বলা হয়েছে, &#8216;আদালতের অনুমতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিনিধি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সিআইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে লকার দুটি ভাঙা হয়।&#8217;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আইনমতে প্রতিটি লকারের জন্য দুটি করে চাবি থাকে, একটি যিনি লকার ভাড়া নেন তার কাছে অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। লকার খুলতে হলে দু&#8217;জনের চাবি লাগবে। শেখ হাসিনার যে চাবি আছে সেটা ছাড়া লকার খুলতে হলে ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করতে হবে। সেজন্য ডুপ্লিকেট চাবির জন্য থানায় ডায়েরি ও অফিস মেমোরেন্ডাম পাশ করাতে হবে। এসব পদ্ধতি যথাযথ অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। তারা ভেঙেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটি কাগজে আবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে-&#8216;লকার থেকে উদ্ধার করা সোনা শেখ হাসিনার হলফনামায় দেখানো হয়েছিল কি&#8217;? অর্থাৎ বিগত তিনটি নির্বাচন অবৈধ বলেই শেষ নয়, এবার তার নির্বাচনকালিন হলফনামা ধরে টান দিয়ে বাজিয়ে দেখতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজকের মত একই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেখানে যেসব সম্পদ পাওয়া গিয়েছিল তা নিয়ে সেসময়কার পত্র-পত্রিকায় ফলাও করে খবর ছাপা হয়েছিল। ব্যাপারটা এমন যে পাজামা-পাঞ্জাবী পরা শেখ মুজিবের বাড়িতে তার পুত্রবধূর ৪ ভরি ওজনের টায়রা থাকবে কেন? ওসব তো থাকবে আমলা-পুলিশ-ব্যবসায়ী-কর্মকর্তাদের বাড়িতে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">অথচ এই শহরের অন্তত ৫০ লক্ষ মানুষের বাড়িতে অমন ৫শ&#8217; ১ হাজার ভরি সোনার অলঙ্কার আকসার মেলে। গত আমলের জামালপুরের ডিসি ফেয়ারওয়েল নেওয়ার সময় সোনার মুকুট উপহার পেয়ে সেটা মাথায় পরে ফটোসেশন করেছিলেন। সেটা কম করে হলেও ১শ&#8217; ভরির ওপরে ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০২৪-এর আগস্ট থেকে ২০২৫-এর আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে ইন্টেরিম সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি। যখনই তিনি বিশ্বের ডজনখানেক প্রভাবশালী মিডিয়ায় স্বাক্ষাৎকার দিয়ে বিশ্বজোড়া প্রচারে চলে আসলেন, তখনই ইন্টেরিমের থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রমাদ গোনা শুরু করল। আইসিটি আদালতে বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়েও তার রাজনৈতিক প্রচার বন্ধ করতে না পেরে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এবার তার চরিত্র হননের চেষ্টা চলছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জনমানসে তিনি কত টাকার মালিক ছিলেন, বিলাসব্যসনে কত টাকায় ব্যয় করেছেন, কত বড় জমিদারি ছিল তার, এইসব তুলে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর আগে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে &#8216;৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে&#8217; বলে অভিযোগ করা হলো। রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন &#8216;রোসাটম&#8217;-এর সহায়তায় পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারের। এই অভিযোগের পরে রোসাটম সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বয়ং সংক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কারণ, রোসাটম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ইন্টেরিম কর্তৃপক্ষ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেনি। জাস্ট চুপ মেরে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর পরে আসল টিউলিপ সিদ্দিকীর দুর্নীতি নিয়ে প্রচার। টিউলিপ পদত্যাগ করে নিয়ম পালন করেছিলেন। সেই অভিযোগ এখনও প্রমাণ হয়নি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০২৪-এর আগষ্ট মাসে তারা গণভবন লুটপাট চালিয়ে ভেবেছিল; শত-সহস্র কোটি টাকা, সোনাদানা ও দামী অনেক কিছু পাবে। তারা হতাশ হলো সাধারণ বাঙালি পরিবারের ব্যবহার্য জিসিনপত্র ও আসবাদ দেখে। এর মধ্যে চরম ইতরামি হলো একজন প্রৌঢ় নারীর আন্ডারগার্মেন্ট নিয়ে। যে নোংরামি ও অসভ্যতা করা হলো তা বিশ্বজুড়ে প্রচার হয়ে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মানুষের রুচির পরিচয় তুলে ধরল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">উপমহাদেশের রাজনৈতিক কালচারে ব্যক্তিকেন্দ্রীক নোংরামি, অসভ্যতা নতুন নয়। নতুন এটাই যে অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশ বরাবরই এক কাঠি এগিয়ে! আমরা এরশাদ জমানায় একজন &#8216;অসভ্য অভব্য বিকৃতরুচির&#8217; শাহ মোয়াজ্জেমকে দেখেছি। এখন এই ইন্টেরিম আমলে লুঙ্গি ঝাড়া দিলেই দশ-পাঁচটা &#8216;শাহ মোয়াজ্জেম&#8217; বেরিয়ে আসে। এখন আর প্রকাশ্যে অশ্লীল-অশ্রাব্য কথা বলতে কেউ কুণ্ঠিত হয় না। ২৫ থেকে ৩০-এর তরুণরা অবলীলায় &#8216;চ&#8217; বর্গ, &#8216;ল&#8217; বর্গ, &#8216;ম&#8217; বর্গ মিশিয়ে কুৎসিত, ইরোটিক কালচার ছড়িয়ে দিয়েছে। ধেড়েগুলো আবার সেসব শুনে বিমলানন্দ পাচ্ছে। মিডিয়ায় সগর্বে ওইসব যৌনবিকৃতি প্রচারও করছে। তা নিয়ে সুশীলদের কোনও উদ্বেগ নেই।</p>



<figure class="wp-block-image size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="820" height="1024" src="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS-820x1024.jpg" alt="" class="wp-image-8251" srcset="https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS-820x1024.jpg 820w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS-240x300.jpg 240w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS-768x960.jpg 768w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS-1229x1536.jpg 1229w, https://nenews.news/wp-content/uploads/2025/11/Gold-Sheikh-Hasina-NE-NEWS.jpg 1639w" sizes="(max-width: 820px) 100vw, 820px" /></figure>



<p class="wp-block-paragraph">স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার প্রকল্পের বয়স ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই দুদক থেকে বলা হয়েছে, &#8216;দুটি লকার খুলে যে ৮৩২ ভরি (৯ হাজার ৭০৭ দশমিক ১৬ গ্রাম) সোনা পাওয়া গেছে, সেগুলো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একার নয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদসহ পরিবারের সদস্যদের নামে ওই সব সোনা জমা রাখা হয়েছিল নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে। এসব সোনার মধ্যে স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি সোনার নৌকা ও হরিণ রয়েছে।&#8217;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অর্থাৎ পরিবারের সবার হলেও &#8220;নৌকা ও হরিণ রয়েছে&#8221;! মানে তারা বিরাট ডিসকভারি করে ফেলেছেন!</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই কি তার চরিত্র হননে মেতেছে এরা? এতে করে হয়ত একশ্রেণীর ভালনারেবল চিন্তার মানুষকে দিকভ্রান্ত করতে পারবে, সবাইকে কি পারবে? উত্তর হচ্ছে-না, পারবে না। বরং নিজেরাই খেলো হতে থাকবে।</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/hasina-bank-locker-gold-controversy/">নিরাপত্তা বলয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় গণভবনে না রেখে ব্যাংকে কেন স্বর্ণ রাখবেন? সত্য আর মিথ্যার মোটা দাগের পার্থক্য</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/hasina-bank-locker-gold-controversy/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>চিকেনস নেক&#8217;-এ অস্থিরতার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি</title>
		<link>https://nenews.news/chickens-neck-india-bangladesh-tension-yunus/</link>
					<comments>https://nenews.news/chickens-neck-india-bangladesh-tension-yunus/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Monjurul Haque]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Nov 2025 13:10:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Opinion]]></category>
		<category><![CDATA[Regional]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://nenews.news/?p=8042</guid>

					<description><![CDATA[<p>চিকেনস নেক অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির নেপথ্যে কী? ইউনুস কেন এই স্পর্শকাতর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজর দিচ্ছেন?</p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/chickens-neck-india-bangladesh-tension-yunus/">চিকেনস নেক&#8217;-এ অস্থিরতার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>বহুল চর্চিত ভারতের ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে গত পনের মাসের ধুন্ধুমার বাদানুবাদের শুরু করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই ভারতের মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে বলেন―’ভারত আমাদের অশাস্ত করতে আসলে তাদের ‘সেভেন সিস্টার্স’ও অশান্ত হবে।‘ এর পরেই ‘সেভেন সিস্টার্স’ ও ’২২ কিলোমিটার চওড়া শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ আলোচনায় উঠে আসে। এতে ঘৃতাগ্নি পড়ে ইউনূস তার ১৩টি বিদেশ সফর এবং দেশে বিদেশিদের সঙ্গে স্বাক্ষাতে সকলকে &#8216;দ্য আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ (The Art of Triumph)&#8217; নামক ক্যাটালগটি উপহার দিলে। এই ক্যাটালগে বাংলাদেশের যে মানচিত্র দেখানো হয়েছে সেখানে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’, ‘চিকেনস নেক’, মালদহ-মুর্শিদাবাদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিতর্কীত ম্যাপটি বিশ্বময় প্রচার হওয়ার পরে ভারত নড়ে-চড়ে বসে।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">গত পনের মাসে পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসেছেন। আসার হার এতটাই বেশি যা নিশ্চিতভাবেই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন এত ঘন ঘন পাকিস্তানি সামরিক কর্তাদের বাংলাদেশে আসতে হচ্ছে? এদের মধ্যে আইএসআই-কর্মকর্তারা তো ছিলেনই, সর্বশেষ পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাকে লালমনিরহাটের পরিত্যাক্ত বিমানবন্দরে, চিকেনস নেক সংলগ্ন অঞ্চলেও নেওয়া হয়েছে। ইন্টেরিম সরকার হঠাৎ করেই প্রায় ৮৪ বছর ধরে পরিত্যাক্ত লালমনিরহাট এয়ার বেসকে জঙ্গি বিমান ঘাঁটি হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে। টাকা ও নির্মানে সহায়তা করবে পাকিস্তান ও চীন। ভারতের গোয়েন্দা সূত্রগুলো নীরবে গভীর পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে…. ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আফগান-পাকিস্তান গুলি বিনিময়ের পরে দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছিল তুরস্কে। সেখানে আফগান কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে-আফগানিস্তানের দির ও চিত্রাল অঞ্চল, কোরার নদী, বাজর, খুররম, নর্থ ওয়াজিরস্তান সাউথ ওয়াজিরস্তান ওরাওয়ার্দি আফগানিস্তানের তথা টিটিপির কব্জায় থাকবে। পাকিস্তান যেন দ্রুত তাদের সৈন্য ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়। আফগানরা ভারতের সঙ্গে গভীর দোস্তির ফলেই যে এমন হুমকি দিচ্ছে তাতে ঘাবড়ে গিয়েই জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা বাংলাদেশে ছুঁটে এসেছিলেন ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স’ দিয়ে ভারতকে জব্দ করতে। অর্থাৎ বাংলাদেশের আবেগসর্বস্ব কর্মকর্তাদের ‘ভারত দখলের’ বায়বীয় স্বপ্ন-খায়েশ দেখিয়ে উত্তেজিত করে চিকেনস নেক কব্জা করে ভারতের নর্থইস্টকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাহির মির্জার সফরেই পাকিস্তান-বাংলাদেশ মিলিটারি ফাউন্ডেশন বা প্যাক্ট ধরণের কিছু একটা গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। এর অর্থ বাংলাদেশে পাকিস্তানের ‘প্রক্সি ওয়ার’-এর ফার্টাইল গ্রাউন্ড হতে চলেছে! জিওপলিটিক্যালি এই ধরণের ডার্টি গেম পাকিস্তান খেলে অভ্যস্ত। তারা যেমন আহ্বান জানায়-ভারতকে, ইরানকে, আফগানিস্তানকে টাইট দিতে চাইলে আমাদের ল্যান্ড ইউজ করো… ‘পাইসা ফেকো আউর তামাশা লুটো’। সেভাবেই ইউনূস লালমনিরহাটে চীন ও পাকিস্তানকে অ্যাড করে ভ্যালু বাড়াতে চেয়েছেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ড, ইউনূসের প্ল্যান খুব সিম্পল। তিনি ভালো করে জানেন তার এইসব উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না। তার পরও তিনি ভারতের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন-ভারতই আমাদের প্রধান শত্রু। তিনি জানেন ‘চিকেনস নেক’ বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এ হাত দিতে গেলে হাত পুড়ে যাবে। ভারতের ইস্টার্ন কমান্ড অ্যাক্টিভ হলে সেটা ফোর্ট উইলয়াম কলকাতা থেকে মিজোরাম পর্যন্ত এবং অরুণাচল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তার প্ল্যান তার ‘মাস্টার’-এর পরামর্শ মত আরও কিছু দিন পাওয়ারে স্টে করা। তাই ছলে-বলে-কৌশলে তিনি নির্বাচন প্রলম্বিত করতে চান। দলগুলোর চাপে ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন’ বললেও তার মূল কথা গত বছর ক্ষমতা গ্রহণের পরেই বলেছিলেন- “আমি যখন দেখব সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, সকল সংস্কার শেষ হয়ে পাঁচ-ছ বছরের মধ্যে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখনই নির্বাচন হবে।“</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>এখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়লেও তিনি ঠেকানোর কৌশল অ্যাপ্লাই করেই যাচ্ছেন। ঘন ঘন পাকিস্তানের সামরিক কর্তাদের বাংলাদেশ সফর তারই অংশ। আইএসআইয়ের জন্য বাংলাদেশ এখন অবারিত। তিনি ‘চিকেনস নেক’-এ একটা ক্যাওয়াস বাঁধাতে চান, যাতে করে ভারত ছোট আকারে হলেও এখানে ইনভেড করে। আর তখনই তিনি বিশ্ববাসীকে ডেকে নালিশ ঠুকতে পারবেন। পাশাপাশি দলগুলোকেও নির্বাচনের ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে পারবেন। এ ছাড়া তার পক্ষে আর কিছু করার সক্ষমতা নেই।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতীয় গোয়েন্দাদের বাংলাদেশ সফরের পরে ভারত ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন চোররা, কিষাণগঞ্জ ও বামুনি অঞ্চলে ৩টি নতুন মিলিটারি গ্যারিসন তৈরি করেছে। পাশাপাশি গত ৬ থেকে ২০ নভেম্বর, ৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ও ১ থেকে ১৫ জানুয়ারি তিনটি NOTAM জারি করেছে। একই সময়ে অরুণাচল প্রদেশজুড়ে অপারেশন ‘পূর্ব প্রচণ্ড প্রহার’ মহড়া চালু করেছে। এই সময়ে বিমান, গোলন্দাজ বাহিনী, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন কম্ব্যাট ট্রেইনিং, কোঅর্ডিনেটেড সর্টিস এন্ড লজিস্টিক ড্রিল মাল্টিপল বেস-এ পরিচালনা করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাকিস্তানের সঙ্গে পুরোনো ভাতৃত্ব নতুন করে চেগিয়ে তুলে লাভের লাভ কিছুই হবে না। সন্ত্রাসী শলা-পরামর্শ ছাড়া এক ‘ভিখিরির’ কাছ থেকে কী পেতে পারে? পাকিস্তানের লাহোরী জেনারেলরা যেমন পাবলিককে জোশে অন্ধ বানাতে আরব্য রজনীর মত গল্প ফাঁদে যে ‘হাজার বছর ধরে হিন্দুস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করব, কাশ্মীর দখল করব, দিল্লিতে ইসলামী ঝান্ডা ওড়াব’। ওই জেনারেলরা যেমন জানে; এসব ‘বাৎ কি বাৎ হাত্তিওকা দাঁত’, তেমিন ইউনূসও জানেন; কস্মিনকালেও তার ‘সেভেন সিস্টার্স’ ‘খেয়ে দেওয়ার খায়েশ’ পুরো হবে না, ‘চিকেনস নেক’ ব্লক করে ভারতকে জব্দ করার দুরভিসন্ধি কার্যকর হবে না, মুর্শিদাবাদ-মালদহ জুড়ে নিয়ে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ গঠনের সিলসিলাও বাস্তবায়ন হবে না। তার পরও তার এই ক্যাওয়াস লাগানোর চেষ্টা থেমে নেই কারণ, তিনি তার ‘মাস্টারের’ কাছে ‘কমিটেড’।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রশ্ন উঠতে পারে ভারত এতবড় সামরিক শক্তিশালী দেশ হয়েও বাংলাদেশের ক্রমাগত প্রভোকেশন-এর জবাব দিচ্ছে না কেন? কেন মুখ বুজে সহ্য করছে? এর পেছনের কারণ খুঁজতে হলে ভারতের বিদেশ নীতি বুঝতে হবে। ভারত শত প্রভোকেশনেও প্রতিবেশী কোনও দেশে ইনভেড চালানো সমর্থন করে না। সম্প্রতি কাশ্মীরের পেহেলগাও-এ সন্ত্রাসী হামলার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন- “ভবিষ্যতে যেকোন জঙ্গি হামলাকে যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে”, তার পরও ভারত এইমুহূর্তে বাংলাদেশে হামলা করবে না তার টেকনিক্যাল কারণ শেখ হাসিনা। এই মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ চালালে সেটা ‘শেখ হাসিনার প্রভোকেশন’ বলে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে তিনি ভারতে বসে নিজ দেশে হামলা সমর্থন করছেন পুনরায় ক্ষমতা হাতে পাওয়ার জন্য। যেমনটি করেছেন ২০২৫-এ শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনিজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতের এই ‘টেকনিক্যাল লিমিটেশন’ বিষয়টা কাউন্টার পার্ট বাংলাদেশের হুমকিদাতারাও জানেন, সে কারণে এখানে বসে কিছু অথর্ব রিটায়ার্ড পার্সনরা হাওয়ায় তলোয়ার ঘোরাচ্ছেন। চার ঘন্টায় কলকাতা দখলের হুমকি-ধামকি দিয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ফেলছেন। ভারতের নীরবতা এদের উৎসাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরা ভেবে বসে আছেন-ভারত ভয় পেয়েছে! এই ধরণের অপরিপক্ক লোকজনের বায়বীয় হুমকি-ধামকির কারণে পাকিস্তানও এখন তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘ইস্টার্ন ফ্রন্ট’ নিয়ে বেশ আশাবাদী। নিজেদের পেছনের কাপড় খুলে গেলেও লজ্জা নাই, অন্যের কাপড় খুলতে পারার মধ্যেই জজবায়ে জোশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>‘চিকেনস নেক’ অশান্ত প্রজেক্ট ফেল করলে ইউনূসের নেক্সট অপশন জঙ্গি লেলিয়ে সীমান্তের এপার-ওপার দুই পারই অশান্ত করে তোলা। গত ষোল মাসে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে একাধিক রুটে দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকেছে এবং বেরিয়েছে। সঙ্গে আছে ২০২৪-এর লুট হওয়া মারনাস্ত্র। সেসব পড়েছে একাধিক জঙ্গি ক্যাডার ও উপদেষ্টার ‘মিলিশিয়া বাহিনী’র হাতে। যার তাপে উপেদেষ্টা এবং এনসিপির শিশু নেতারা প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। ইউনূসের প্ল্যান; এদের দিয়ে দুই পার অশান্ত করে তোলা, যাতে করে নির্বাচন পিছিয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার আকাঙ্খায় তিনি একটার পর একটা ‘প্রজেক্ট’ ইমপ্লিমেন্ট করবেন। এর ফলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে গেলেও তার কিছু যাবে-আসবে না।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে সক্ষমতা, যুদ্ধবাস্তবতা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিশালত্ব, জনগণ সাথে না থাকার কারণে তাদের এইসব প্ল্যান নিশ্চিতভাবেই ভেস্তে যাবে। আইএসআইসহ পাকিস্তানি সেনা কর্তাদের আশ্বাস-প্রশ্রয়-পরামর্শ, তুর্কি মারনাস্ত্র, তুর্কি টাকা, তুর্কি কুমন্ত্রণা, সিআইএ-র প্রত্যক্ষ্য মদদ, ডিপস্টেটের অবারিত ডলার, সমর্থনে বলিয়ান হয়ে হিজবুত তাহরির, লস্কর-এ-তৈয়বা, জইশ-এ-মোহাম্মদ, হিজবুল মুজাহাদিন, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, জেএমজেবি, শাহাদত-ই-আল হিকমা, হিযবুলমুজাহিদিন, আল্লাহর দল, শহীদ হামজা ব্রিগেড, হিযবুত তাওহীদ, আসিফ রেজাকমান্ডো ফোর্স, আনসার আল ইসলামসহ দেশ-বিদেশের জঙ্গিরা স্লিপার সেল তৈরি করবে, ভারতে পুশইন করবে, দুচারটে বোমা বিস্ফোরণ হবে, এপারে মিছিল-সমাবেশ করে শক্তিমত্তা দেখিয়ে যে কোনও সময় গজওয়াতুল হিন্দ বাস্তবায়ন করে ফেলবে বলে হুঙ্কার দেবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও এদেরকে দিয়ে ভারতের ‘চিকেনস নেক’, ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর কিছুই করতে পারবে না। দেশকে হয়ত কিছু সময়ের জন্য অশান্ত করতে পারবে, ওই অতটুকুই। পাকিস্তান পেছনে আছে ভেবে এরা লম্ফঝম্ফ দিচ্ছে, সেই পাকিস্তানের সমস্ত শক্তি দিয়েও কিচ্ছু করতে পারবে না। বাগাড়ম্বরই সার হবে। ভারতের কিছু করতে পারুক না পারুক এতে ইউনূস গংয়ের মনবাঞ্ছা পুরণ হতে পারে। এইসব অরাজকতা অজুহাতে নির্বাচন অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে ইন্টেরিম ক্ষমতা দীর্ঘ করতে পারে। সেটাই এদের এজেন্ডা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
<p>The post <a href="https://nenews.news/chickens-neck-india-bangladesh-tension-yunus/">চিকেনস নেক&#8217;-এ অস্থিরতার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি</a> appeared first on <a href="https://nenews.news">NE NEWS</a>.</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://nenews.news/chickens-neck-india-bangladesh-tension-yunus/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
