২০২৫ সালে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হয়েছেন, যা আগের ২ বছরের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে শতাধিক।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮ জন, মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ২০ জন, এপ্রিলে ১০ জন, মে মাসে ৯ জন, জুন মাসে ১০ জন, জুলাইয়ে ৮ জন, আগস্টে ৬ জন, সেপ্টেম্বরে ৫ জন, অক্টোবরে ৬ জন, নভেম্বরে ৮ জন এবং ডিসেম্বরে ৪ জন রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হয়েছেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর মিরপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে। আর ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গুলি করে হত্যা করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদীকে। গত বুধবার তেজগাঁওয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এমন সব হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। আহত ৪ হাজার ৭৪৪ জন।
পুলিশের তথ্য বলছে, গত বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৩২ আর ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ৩ হাজার ২৩।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, নির্বাচন সামনে রেখে হত্যাসহ সব ধরনের সহিংসতা ও অপরাধ কমাতে তৎপর বাহিনী।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্টের পর পুলিশ কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার কারণেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। এটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে।




